আজ : ১৬ই মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ২রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, সোমবার প্রকাশ করা : এপ্রিল ৭, ২০২২

  • কোন মন্তব্য নেই

    নেত্রকোণায় খুনি ও মাদকসেবীদের হাতে ছাত্রলীগের গুরুদায়িত্ব; হতাশায় ত্যাগীরা

    স্টাফ রিপোর্টারঃ

    বাংলাদেশ ছাত্রলীগ নেত্রকোণা জেলা শাখার কমিটি গঠনের ৮ মাসের মাথায় জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি রবিউল আওয়াল শাওন ও সাধারণ সম্পাদক সোবায়েল আহম্মেদ খান গত (১২ মার্চ) জেলার দুইটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট সদর এবং পৌর শাখা ছাত্রলীগের আংশিক আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দেন। নেত্রকোণা জেলার এই গুরুত্বপূর্ণ দুইটি ইউনিটের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে হত্যা মামলার আসামী, বিবাহিত, মাদকাসক্ত ও জামাত বিএনপি লোকজনদের নিয়ে। যা নিয়ে প্রতিনিয়ত সারা জেলার রাজনৈতিক মহলে চলছে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড়।

    এদিকে দুই কমিটি গঠনের পর থেকেই নতুন নেতৃত্ব প্রত্যাশীদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। দীর্ঘ ১৮ বছর পর সাইফুল ইসলাম খান শুভ্রকে আহবায়ক ও আরিফ আহমেদ জোবায়েরকে যুগ্ম আহবায়ক করে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, নেত্রকোণা সদর উপজেলা শাখার আংশিক আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে।

    জানা গেছে, এই সদর উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটিতে যেখানে বইছে টাকার ছড়াছড়ি, রয়ে গেছে বিবাহিতদের মেলা। সদর ছাত্রলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক ওবায়দুর রহমান রুমান। জানা যায়, সে দীর্ঘদিন আগে কোর্ট ম্যারিজের মাধ্যমে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। সদর ছাত্রলীগ কমিটির সদস্য পদে রয়েছে সাইফুল হক তুহিন তিনিও বিবাহিত, আরিয়ান সরকার রাকীব সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সদস্য সে তুখোড় বিএনপি-জামাত পরিবারের সন্তান।অপরদিকে ১৪ বছর পর মামুনুর রশিদ টিপুকে আহ্বায়ক ও জাহিদ হাসান প্রান্তকে যুগ্ম আহবায়ক করে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, নেত্রকোণা পৌর শাখার আংশিক আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়।পৌর ছাত্রলীগের আহব্বায়ক মামুনুর রশিদ টিপু যে কিনা ২০১৪ সালের আলোচিত “ইফতি” হত্যা মামলার এজাহার ভুক্ত একজন আসামী।

    নিহত মির্জা আজিজ আমান ইফতি, সে ইন্টারে পড়োয়া এক কলেজ ছাত্র এবং ছাত্রলীগের একনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন। যে ইফতি হত্যা মামলার আসামীদের বিচারের দাবিতে এখনও প্রতিবাদ হয় নেত্রকোণার মাটিতে। সেই হত্যা মামলার আসামী’কে পৌর ছাত্রলীগের আহব্বায়ক করে কমিটি দিয়ে সমালোচনা মুখে পড়েছেন জেলা ছাত্রলীগ সহ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগও।

    এখানেই শেষ নয় এই পৌর ছাত্রলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক জাহিদ হাসান প্রান্ত সে বিগত সময়ে জামাত-বিএনপির এক তুখোড় কর্মী ছিলেন। ২০২১ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ভাস্কর্য ভাঙন নিয়ে সারাদেশে জামাতের আনদোলনে নেত্রকোণায় জামাতের কর্মী হিসেবে কাজ করেন। ওই সময়ের মোবাইলের ধারণকৃত ভিডিও পাওয়া যায়। ভিডিও থেকে ছবি কেটে নিউজে সংযুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।আর যার কথা না বললেই নয় পৌর ছাত্রলীগের কমিটিতে যুগ্ম-আহব্বায়ক পদে আছেন আশিক নূর। যার বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক মাদক মামলা। এমনকি ফিল্মি স্টাইলে মাদক সেবনের সময় ও রয়েছে নারীদের সাথে নষ্টামির ছবি।যা ইতি পূর্বে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরালও হয়েছে।

    এসব কিছু দেখার পরেও জেলা কমিটির সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক তাকে যুগ্ম-আহব্বায়ক এর স্থানে রেখেছেন। উপরের ছবি গুলোই প্রমান করে দেয় তিনি পৌর ছাত্রলীগের কমিটিতে থাকার মত কতটুকু যোগ্যতা বহন করেন..?

    বাংলাদেশ ছাত্রলীগের মত এমন একটি বৃহৎ সংগঠনে যদি এসব লোকজন নিয়ে জেলার গুরুত্বপূর্ণ দুইটি ইউনিটের কমিটির গঠন করে জেলা ছাত্রলীগ। তাহলে পরবর্তী সময়ে তাদের কাছ থেকে আর কতটুকু ভালো কিছু আশা করতে পারে জেলার রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।যুগ্ম-আহব্বায়ক মুক্তার হোসেন হৃদয় যে কিনা জেলা পৌর বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটিতে সদস্য গাজি মিয়ার ছেলে। পৌর ছাত্রলীগের আহব্বায়ক কমিটিতে সদস্য পদে রয়েছে শেখ ফারদিন সে-ও বিএনপি পরিবারের সন্তান। অর্থের বিনিময়ে হত্যা মামলার আসামী, অছাত্র, বিবাহিত, মাদকাসক্ত ও বিএনপি-জামাত পরিবারের সদস্যদের উপজেলা ও পৌর ছাত্রলীগের আহব্বায়ক কমিটি গঠনের কান্ড দেখে নিস্তব্ধ হয়ে গেছে জেলার সর্বস্তরের রাজনৈতিক নেতা-কর্মীরা।

    একাধিক নেতৃবৃন্দরা বলেন, আমাদের আস্থা ছিলো জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল আউয়াল শাওন ও সাধারণ সম্পাদক সোবায়েল আহম্মেদ খান মেধাবী ও যোগ্যদের দিয়ে জেলার বিভিন্ন ইউনিটের কমিটি গঠন করবে। কিন্তু জেলার গুরুত্বপূর্ণ দুটি ইউনিটের কমিটি গঠনের কান্ড দেখে আমরা হতবাক হয়ে গেছি। তাদের কাছে এরকম কিছু প্রত্যাশা করেনি। কমিটিতে মেধবী ও যোগ্যদের কেনো স্থান হলোনা এটাই ভাবার বিষয়। নব-গঠিত আহবায়ক কমিটি নিয়ে বর্তনামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুক পোস্টের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানাচ্ছে সর্বস্তরের নেতা-কর্মীরা। বিক্ষুব্দ নেতাকর্মীরা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

    Leave a Reply

    Your email address will not be published.