আজ ৯ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২২শে জানুয়ারি, ২০২১ ইং

কুয়াকাটাবাসীর রাত কাটে নির্ঘুম চোর ডাকাত আতঙ্কে

কুয়াকাটায় চুরি ডাকাতি আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত পনেরদিনে অন্তত দশ বাসা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চোর হানা দিয়েছে। এর মধ্যে সরকারী প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। এসব চোর সুযোগ বুঝে ডাকাতির ঘটনাও ঘটাচ্ছে বলে অভিযোগ ভূক্তভোগীদের। সিডর বা আইলার আতঙ্ক না থাকলেও চোর আতঙ্কে কুয়াকাটার মানুষের এখন নির্ঘুম রাত কাটে। ব্যবসায়ীরা রাতে দোকানে তালা দিয়ে বাসায় যাবে, নাকি দোকান পাহারা দিবে (!) এমন দ্বিধায় কাটছে তাদের। তবুও তারা থানা পুলিশের কাছে যেতে ভরসা পাননা। ক্ষতিগ্রস্তদের ভাষ্য, খোয়া যাওয়া টাকা পয়সা উদ্ধারের চিন্তায় থানায় গেলে আরও গচ্চা যাবে! অবশ্য মহিপুর থানা পুলিশ বলছে ভিন্ন কথা।

অভিযোগে কুয়াকাটা পৌরসভার নবীনপুরের রেদওয়ানুল ইসলাম রাসেল বলেন, ‘গত ১১ জুলাই রাতে তালা ভেঙে আমাদের বাসায় চোর ঢুকে আলমিরাসহ একাধিক তালা ভেঙেছে। এ নিয়ে পুলিশের কাছে গেলে কোন ফল হবেনা বিধায় যাইনি।’ এর মধ্যে রয়েছে ডাকাতির ঘটনাও। কুয়াকাটা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির লাগোয়া এলজিইডির গেস্টহাউস ‘চয়ন’ এ ডাকাত দল হানা দেয় গত ২৬ জুলাই রাতে। এলজিইডির কেয়ারটেকার মোশারেফের শয়নকক্ষে প্রবেশ করে তার হাত পা বেঁধে মারধর করে দুইটি মোবাইল ফোন, এক ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ ছয় হাজার টাকা নিয়ে গেছে। বর্তমানে মোশারেফ পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এর একদিন আগে কুয়াকাটা সদর রোডে পল্লী চিকিৎসক শাহনেওয়াজের ফার্মেসী থেকে ৪০ হাজার টাকা খোয়া গেছে। কুয়াকাটা পাঞ্জুপাড়া এলাকার মজিবর রহমান হাওলাদারের বাসা থেকে নগদ ২০ হাজার টাকা, একই মহল্লার জামাল হোসেনের মোবাইল ফোন ও নগদ ৬০ হাজার টাকা, পৌরগোজার গফুর খানের ১০ হাজার টাকা চুরির অভিযোগ করা হয়েছে।
এছাড়া চোরের হানায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে পশ্চিম কুয়াকাটা এলাকার নেছার, মম্বিপাড়া এলাকার যথাক্রমে সুকেশ, সুকদেভ, প্রিয়নাথ ও নারায়ন ডাক্তারের নাম উল্লেখযোগ্য থাকলেও কেউ পুলিশের কাছে যায়নি বলে দাবি মহিপুর থানা পুলিশের।
সর্বশেষ শুক্রবার রাতে কুয়াকাটা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সামনে বেড়িবাঁধের বাইরে জলিল মীরের বাসায় হানা দেয় দুর্বৃত্তরা। জলিল মীরের স্ত্রী রাতে ঘরের বাইরে বের হতেই পেছন থেকে আকস্মিক মুখে কাপড় বেঁধে ফেলা হয়। তাৎক্ষণিক পাশের টিনের উপর আঘাত করায় আশেপাশের লোকজন টের পেলে ছুটে আসায় দুর্বৃত্তরা সটকে পড়ে।
এসব প্রসঙ্গে মহিপুর থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান বলেন, আমরা কারও কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা ছাড়াই খোঁজখবর নেওয়া এবং প্রয়োজনে মামলা নিয়ে থাকি। আমরা চোর ধরে আদালতে পাঠাই। ওই চোর জামিন নিয়ে কখন বের হয় তাতো আমাদের জানা থাকেনা। এছাড়া গত পনেরদিনে চুরির বিষয়ে কুয়াকাটার কেউ আমাদের কাছে অভিযোগ নিয়ে আসেনি।

২ responses to “কুয়াকাটাবাসীর রাত কাটে নির্ঘুম চোর ডাকাত আতঙ্কে”

  1. I very thankful to find this site on bing, just what I was searching for : D as well saved to favorites.

  2. Hello! I’m at work browsing your blog from my new iphone 4! Just wanted to say I love reading through your blog and look forward to all your posts! Carry on the great work!

Leave a Reply

Your email address will not be published.

     এ বিভাগের আরো সংবাদ
Share via
Copy link
Powered by Social Snap
%d bloggers like this: