আজ ১০ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৫শে নভেম্বর, ২০২০ ইং

কুমারখালীর তেবাড়িয়া-হাসদিয়া খেয়া ঘাট পারাপারে চরম অব্যবস্থাপনা

মালিক-শ্রমিকদের কাছে জিম্মি মানুষ হাসপাতালগামী রোগী, দুরপাল্লার গাড়ির যাত্রী, বয়োবৃদ্ধের অনুনয়-বিনয় ও শিশুদের কান্নাকাটির শব্দের কোন তোয়াক্কা নেই। শুধুমাত্র প্রশাসনের কর্মকর্তা কিংবা ক্ষমতাশীন দলের বড় নেতা ছাড়া সাধারন মানুষকে সময় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় কুষ্টিয়ার কুমারখালীর তেবাড়িয়া-হাসদিয়া খেয়া ঘাট পারাপারের সময়। এখানে সাধারন যাত্রীদের সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে কোন মাথা ব্যথা নেই কর্তৃপক্ষের। কিন্তু অতিরিক্ত টাকার লোভে মানুষের পাশাপাশি মাঝিরা ইচ্ছেমতো দীর্ঘ সময় ধরে মালামাল বোঝাই করলেও ঘাট মালিকদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়না।

সরেজমিনে গিয়ে দেখাযায়, মানুষের পাশাপাশি একই নৌকায় সিএনজি, অটোরিক্সা সহ মালামাল বোঝাই ভ্যান ও মটর সাইকেল, বাইসাইকেল তোলা হয়। বর্ষা মৌসুমেও ভরা নদীতে অতিরিক্ত মালামাল বোঝাই করে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় নদী পারাপার হতে হচ্ছে মানুষ।

গতকাল শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে পান্টি ইউনিয়নের গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার সময় কুমারখালী ডিগ্রি কলেজের প্রাক্তন অধ্যাপক মোতাহার হোসেন খান নৌকার উপর থেকে মালবাহী (মুরগীর খাঁচা) ভ্যানের ধাক্কায় নদীতে পড়ে যান। এ সময় নৌকার অন্যান্য যাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। যদি অল্প সময়ের ব্যবধানে তিনি সাঁতার দিয়ে তীরে চলে আসেন। নদী পারাপারের সময় এধরণের ঘটনা অহরহ ঘটে থাকে বলে জানান স্থানীয়রা।

যদুবয়রা ইউনিয়নের কেশবপুর এলাকার জনৈক প্রবীণ ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মানুষের চেয়ে মালামাল বোঝাই দিতেই বেশি আগ্রহী মাঝিরা। কেননা মানুষের নিকট থেকে তারা কোন টাকা নিতে পারেনা, কিন্তু মালামাল উঠালে নৌকার উপর থেকে মাঝিরা অতিরিক্ত টাকা আদায় করে। আর যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের টাকা আদায় করা শেষ না হয় ততোক্ষন পর্যন্ত নৌকা তীরে না নিয়ে নদীতেই ভাসিয়ে রাখে।

নদী পারাপারের সময় নৌকার উপর থেকে নদীতে পড়ে যাওয়া প্রসঙ্গে প্রবীণ কলেজ শিক্ষক মোতাহার হোসেন খান এক কথায় বলেন, নৌকায় স্বাভাবিকভাবে দাঁড়ানোর জায়গা কোথায় ?

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই জানান, এই খেয়াঘাট পারাপারের সময় কোন অনিয়মের প্রতিবাদ করার উপয় নেই। নৌকার উপর থেকে মাঝিদের সাথে কোন বাকবিতন্ডা হলে টোল ঘরে এসে হুমকী খেতে হয়। অনেক সময় অসৌজন্যমূলক আচরণের মুখোমুখিও হয়ে হয়। গত কয়েকমাস পূর্বে কুমারখালী থানার সাদা পোষাকের জনৈক পুলিশ সদস্যের সাথেও অসৌজন্যমুলক আচরণ করে ঘাটে কর্মরত শ্রমিকেরা। যদিও পরে তার মাশুল গুণতে হয়েছিল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জনৈক নারী বলেন, বাবার বাড়িতে যাতায়াতের জন্য প্রতি মাসে অন্তত কয়েকবার নদী পারাপার হতে হয়। কিন্তু নদী পারাপারের সময় রোদ কিংবা গরমে কখনো কখনো ছোট্ট বাচ্চারা ভীষণ কান্নাকাটি শুরু করে। তখন নৌকার মাঝিদের কাছে একটু তাড়াতাড়ি নৌকা ছাড়ার জন্য অনুরোধ করলেও কোন কাজ হয়না। বরং উল্টো তাকিয়ে থাকে তারা।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সাথে আলাপকালে জানাযায়, কুমারখালী শহরের পাইকারি দোকান থেকে কোন মালামাল তাদের দোকানে বিক্রির জন্যে ক্রয় করে নিয়ে যাওয়ার সময় অধিকহারে টাকা দিতে হয়। আবার নদী পারাপারের সময় নৌকার উপর থেকে টাকা আদায় করে মাঝিরা। এ নিয়ে ঘাট মালিকদের নিকট অভিযোগ দিয়েও কোন কাজ হয়না বরং উল্টো হুমকী খেতে হয়।

নৌকার উপর থেকে মটর সাইকেল চালক সহ মালামাল নিয়ে যাওয়ার সময় টাকা আদায়ের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে তেবাড়িয়া-হাসদিয়া খেয়া ঘাটের ইজারাদার কামরুজ্জামান আইয়ুব বলেন, জেলা পরিষদে গিয়ে কথা বলতে হবে।

One response to “কুমারখালীর তেবাড়িয়া-হাসদিয়া খেয়া ঘাট পারাপারে চরম অব্যবস্থাপনা”

  1. I really like your blog.. very nice colors & theme. Did you
    make this website yourself or did you hire someone to do it for you?

    Plz reply as I’m looking to create my own blog
    and would like to know where u got this
    from. kudos

Leave a Reply

Your email address will not be published.

     এ বিভাগের আরো সংবাদ
Share via
Copy link
Powered by Social Snap
%d bloggers like this: