আজ ১৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৩রা ডিসেম্বর, ২০২০ ইং

শিক্ষার্থীদের ক্লাসে উপস্থিতির হার ২০ থেকে ২৫ শতাংশ!

লালমনিরহাট জেলায় ২০১৮ এর এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়েছে ৪০ জন। ৯ হাজার ১১ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে । ৫ হাজার ২৬০ জন পাস করেছে। জেলায় পাশের হার ৫৭.৮৯%। জাতীয় পর্যায়ে পাসের হার ৬০%।

২০১৮ সালে এইচএসসি ও আলীম পরীক্ষার ফলাফলে জিপিএ ৫ ও পাশের হার কম হওয়ার অন্যতম কারন হচ্ছে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে উপস্থিতির হার ২০ থেকে ২৫ শতাংশ।  ফলে ক্লাস হয় না। শিক্ষকরা কলেজ ও মাদ্রাসায় আসতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। অধিকাংশ কলেজের অধ্যক্ষ ও মাদ্রাসার সুপার সঠিক সময়ে প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত থাকেন না বলে অভিভাবক ও এলাকাবাসির অভিযোগ রয়েছে।

নিয়োগ বানিজ্যের মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার শিক্ষকেরা শিক্ষার্থীদের পড়াতে ততটা আগ্রহী নয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। অধিকাংশ শিক্ষকেই মাঝে মাঝে প্রতিষ্ঠানে হাজিরা দিয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে চলে যান। শিক্ষকদের নিয়ন্ত্রন করার জন্য কেউ নেই। কমিটি নিয়োগ বানিজ্যের কারনে শিক্ষদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেন না। অপর দিকে শিক্ষকদের অনেকেই রাজনীতি, ব্যবসা-বানিজ্য, কোচিং বানিজ্য, গণপ্রতিনিধিসহ অন্যান্য লাভজনক পেশায় নিয়োজিত। এরা সকল প্রকার নিয়ন্ত্রনের উর্দ্ধে।

বোর্ডের পরিদর্শক লাভজনক পরির্দশন ছাড়া কলেজ ও মাদ্রাসা পরিদর্শনে আসেন না। সম্প্রতি মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের কলেজ ও মাদ্রাসা পরিদর্শনে দায়িক্ত দেয়া হয়েছে। এই সকল কর্মকর্তা মাধ্যমিক পর্যায়ে  শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোর দেখাশুনার করতে হিমসীম খাচ্ছেন। অপর দিকে সরকারী নিদের্শনা থাকা সত্ত্বেও অধিকাংশ কলেজের আয়-ব্যয় ব্যাংকের মাধ্যমে পরিচালিত হয় না। এমনকি নিয়োগ বানিজ্যের টাকার কোন সঠিক হিসাব নেই। এ নিয়ে শিক্ষকদের মাঝে অসন্তোষ রয়েছে। তাই অনেকেই মাসের পর মাস শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত থেকে প্রতি মাসে তার প্রাপ্য মাসিক বেতন-ভাতা গ্রহন করছেন।
কলেজ পযার্য়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে নিয়োগকৃত শরীর চর্চা শিক্ষক, বিভিন্ন বিষয়ের প্রদর্শক, গ্রন্থাগারিক, সহকারী গ্রন্থাগারিকদের পোয়া বারো তারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত না থেকে বছরের পর বছর অন্য কাজে নিয়োজিত থেকে প্রতিমাসে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।

সর্বপরি ২০১৮ এমসিকিউ প্রশ্নপত্র একটু কঠিন হয়েছে। পরিক্ষা হলে তদারকি কিছুটা হলেও বৃদ্ধি পেয়েছে। খাতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে কিছুটা জবাবদিহিতা  এসেছে। ইংরেজি বিষয়ে অধিকাংশ ছাত্র-ছাত্রী অকৃতকার্য হয়েছে।

লালমনিরহাটে ২০১৮ এর এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ প্রাপ্ত ৪০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ২৬ জন সদর উপজেলা থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে, ৫ জন আদিতমারী  উপজেলার, ১ জন কালীগঞ্জ উপজেলার,  ৬ জন হাতীবান্ধা উপজেলার ও পাটগ্রাম উপজেলায় ২ জন।

লালমনিরহাট সদর উপজেলায় ক্যান্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ থেকে ১১ জন, লালমনিরহাট সরকারি কলেজ থেকে ০৭ জন, মজিদা খাতুন মহিলা সরকারি কলেজ থেকে ০৭ জন ও তিস্তা কলেজ থেকে ০১ জন।
আদিতমারী উপজেলায় আদিতমারী কলেজ থেকে ০২ জন, নামুড়ী কলেজ থেকে ০২ জন ও কান্তেশ্বর বর্মন স্কুল এন্ড কলেজ থেকে ১ জন।
কালীগঞ্জ উপজেলা থেকে শুধু মাত্র সামছুদ্দীন কমর উদ্দীন কলেজ থেকে ১ জন জিপিএ ৫ পেয়েছে।
হাতীবান্ধা উপজেলায় হাতীবান্ধা আলীম উদ্দিন কলেজ থেকে ০৪ জন, হাতীবান্ধা মহিলা কলেজ থেকে ০১ জন, দইখাওয়া কলেজ থেকে ০১ জন।
পাটগ্রাম উপজেলার পাটগ্রাম মহিলা কলেজ থেকে ০১ জন ও বাউড়া পুনমচাঁদ ভুতুরিয়া কলেজ থেকে ০১ জন।
এইস.এস.সি পরীক্ষায় সদর উপজেলায় পাসের হার ৬৪.৮৭%, আদিতমারী উপজেলায় ৬১.০৫%, কালীগঞ্জ উপজেলায় ৫৪.৩১%, হাতীবান্ধা উপজেলায় ৫২.৩২% ও পাটগ্রাম উপজেলায় ৫৬.৯৪%, মোট পাসের হার ৫৭.৮৯%।
২০১৮ সালে জেলায় আলীম পরীক্ষায় অংশ গ্রহন কারী পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৬৪৪ জন। পাস করেছে ৩৯৬ জন। জিপিএ ৫ শূন্য (০)। পাসের হার ৬১.৪৩%।
জেলায় বি.এম পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ২ হাজার ৬৫৮ জন, পাস করেছে ২ হাজার ৭২ জন। জিপিএ ৫ পেয়েছে ৪৮ জন। পাসের হার ৭৮.০২%।

কলেজ পর্যায়ের ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকদের উপস্থিতি শতভাগ নিশ্চিত করা সম্ভব না হলে পরিক্ষার ফলাফলের ক্ষেত্রে বির্পযয় আসবে। সর্বপরি গুনগত ও মানসম্মত শিক্ষার সুদূরপরাহত।

One response to “শিক্ষার্থীদের ক্লাসে উপস্থিতির হার ২০ থেকে ২৫ শতাংশ!”

  1. Because the admin of this web page is working, no doubt very rapidly it will be well-known, due to its feature
    contents.

Leave a Reply

Your email address will not be published.

     এ বিভাগের আরো সংবাদ
Share via
Copy link
Powered by Social Snap
%d bloggers like this: