আজ ১৪ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৯শে নভেম্বর, ২০২০ ইং

কুমারখালীতে জলাবদ্ধতায় পৌরবাসীর মানবেতর জীবন-যাপন

পানি নিস্কাসনে পরিকল্পিত উদ্যোগ নেই পৌর কর্তৃপক্ষের, তাই অতীতের ন্যায় এবারো জলাবদ্ধতায় মানবেতর জীবন যাপন করছে মানুষ। আর পানির নীচে তলিয়ে থাকা রাস্তা-ঘাটের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। সরেজমিন ঘুরে কুষ্টিয়ার কুমারখালী পৌর এলাকার ১নং, ৫নং ও ৬নং ওয়ার্ডের জলাবদ্ধতার কারণে মানুষের মানবেতর জীবন-যাপনের চিত্র চোখে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতিবছরই বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগ পেহাতে হয় তাদের। আর পৌর সভার সংশ্লিষ্টদের মুখে একই কথা শুনতে হয় এবারই শেষ, আগামী বছর জলাবদ্ধতার এই দুর্ভোগ থাকবেনা। কিন্তু পানি নিস্কাসনে পরিকল্পিত কোন উদ্যোগ নেই পৌর কর্তৃপক্ষের। বছরের অধিকাংশ সময়ই জলাবদ্ধতার কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন- ১ নং ওয়ার্ডের দুর্গাপুর এলাকা, ৫ নং ওয়ার্ডের বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন আদিবাসীপাড়া ও ৬ নং ওয়ার্ডের সেরকান্দি এলাকার মানুষ।

দুর্গাপুর এলাকায় সরেজমিন ঘুরে দেখাগেছে-এই ওয়ার্ডে পানির নীচে তলিয়ে রয়েছে উপজেলা পরিষদ মাঠ, কুমারখালী আদর্শ মহিলা ডিগ্রী কলেজ মাঠ, ফুলকুড়ি আইডিয়াল স্কুল মাঠ, পৌরসভার অর্থায়নে তৈরী (আরসিসি) পাকা রাস্তাসহ কাঁচাপাকা বহু বসতবাড়ি। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, প্রতি বছরই বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এই দুরাবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে চাই। আর সহ্য হচ্ছেনা। কিন্তু কবে পরিত্রাণ পাবো জানিনা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বৃষ্টি শুরু হলেই এই (দুর্গাপুর) এলাকার মানুষের দুর্ভোগ শুরু হয়। বছরের অধিকাংশ সময়ই পানির তলিয়ে থাকে বসতবাড়ি, ঈদগাহ্সহ উপজেলা পরিষদ মাঠ। আর এই জলাবদ্ধতার কারণে খেলাধুলা ছাড়াও সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের তুলে ধরার লক্ষ্যে আয়োজিত উন্নয়ন মেলা এবং রাষ্ট্রীয় জাতীয় দিবস সহ নানা কর্মসূচী উদযাপনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। দুর্গাপুর এলাকার বাসিন্দা ও অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য জানান, জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগে আছি। পানি নিস্কাসনে সংশ্লিষ্টদের পরিকল্পিত উদ্যোগ নেই উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, এই গ্রামের মানুষ প্রায় ৭/৮ বছর এই ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায় করতে পারেনা শুধুমাত্র জলাবদ্ধতার কারণে।

অন্যদিকে, ৫ নং ওয়ার্ডের বাসস্ট্যান্ড এলাকার আদিবাসী (সরদার) পাড়ার বাসিন্দাদের চরম মানবেতন জীবন-যাপন করতে দেখাগেছে। সরেজমিন আদিবাসী (সরদার) পাড়া ঘুরে দেখাযায়, ওই পাড়ার সবগুলো টিউবওয়েল অকেজো এবং পানিতে তলিয়ে রয়েছে। পাড়ার মধ্যে প্রবেশের জন্য পৌর সভার অর্থায়নে পাকা (আরসিসি) রাস্তাগুলো তলিয়ে রয়েছে।

সরদার পাড়ার বাসিন্দা মায়া রানী সরদার,  মল্লিকা রানী সরদার ও বিথি রানী সরদার জানান, আমাদের পাড়া পানিতে ভাসছে। কোথাও একটু দাঁড়ানোর মতো শুকনো জায়গা নেই। আমাদের পাড়ায় ঢোকার রাস্তাসহ উঠানে ও ঘরের মেঝেতে পানি। চুলার মধ্যে পর্যন্ত পানি ঢুকে পড়েছে। তাই মাটির তৈরী চুলা একটু উঁচুতে রেখে কোন রকমে রান্না করতে হচ্ছে। এভাবে কতোদিন বেঁচে থাকা সম্ভব ? তারপর শিশুসহ গৃহপালিত পশু নিয়ে চরম দুর্ভোগে আছি।

সরদার পাড়ার বাসিন্দা বিকাশ সরকার জানান, আমাদের সম্প্রদায়ের বাসিন্দারা (নারী-পুরুষ) সকলেই দরিদ্র। বছরের অধিকাংশ সময়ই এই অবহেলিত বাসিন্দাদেরকে জলাবদ্ধতার মধ্যেই দিনাতিপাত করতে হয়। শুনেছিলাম, ড্রেন নির্মান কাজ শুরু হচ্ছে এই জলাবদ্ধতা আর থাকবেনা। কিন্তু কই ড্রেন নির্মান হলেও জলাবদ্ধতা একটুও কমেনি।

এদিকে, ৬ নং ওয়ার্ডের সেরকান্দি এলাকায় সরেজমিন ঘুরে দেখাগেছে, ওই এলাকার ভিতর দিয়ে পৌরসভার পাকা রাস্তার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। আর ওই গ্রামের অধিকাংশ বাসিন্দারাই পানিতে হাবুডুবু খাচ্ছেন। জলাবদ্ধতার কারণে নারী-শিশু ও গৃহপালিত পশু নিয়ে মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিনাতিপাত করছেন। সেরকান্দি গ্রামের বাসিন্দা বিলকিস বেগম ও পারভীন খাতুন জানান, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম এলেই নিজেদেরকে খুব অসহায় মনে হয়। গ্রামে বর্ষা নেই, কিন্তু শহর এলাকায় বাড়ির চারিদিকে থৈ থৈ পানি। তাই বাঁশের চড়াট ও দলং এর সাহায্যে বাড়িতে যাওয়া-আসা করতে হচ্ছে। বাড়ির চারিদিকে পানির কারণে শিশু ও গৃহপালিত নিয়ে চরম সমস্যা হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সেরকান্দি গ্রামের একজন নারী বাসিন্দা বলেন, পৌরসভার মেয়র এবং কাউন্সিলরদের বাড়ি খুব বেশি দুরে নয়। তারা জানেন, প্রতি বছরই আমাদের এই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। কিন্তু কেন তারা এই দুর্ভোগ নিরসনে ব্যর্থ হচ্ছেন ? এ ব্যাপারে আলাপকালে পৌরসভার প্যানেল মেয়র এস. এম রফিকুল ইসলাম বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। যতো দ্রুত সম্ভব আমরা পানি বের করে জনদুর্ভোগ নিরসন করতে চাই। কিন্তু বিভিন্ন স্থানে পানির প্রবাহ বিঘিœত হচ্ছে। মেয়র সাহেবের নির্দেশনা মোতাবেক আমরা সব ধরণের প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করে যাচ্ছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

     এ বিভাগের আরো সংবাদ
Share via
Copy link
Powered by Social Snap
%d bloggers like this: