আজ ১৪ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জানুয়ারি, ২০২১ ইং

ঢাকায় মানুষের চাপ কমাতে প্রধানমন্ত্রীর যত পরিকল্পনা

ঢাকায় মানুষের চাপ কমাতে আশপাশের লোকালয়ে বহুতল আবাসিক ব্যবস্থা করে দ্রুতগতির ট্রেন চালুর পরিকল্পনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই সঙ্গে নদীগুলো খনন করে নৌপথ চালু করা, শহরের চার পাশে বৃত্তাকার এলিভেটেড সড়ক নির্মাণের ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি।

সোমবার জনপ্রশাসন দিবস এবং কাজের মূল্যায়ন হিসেবে জনপ্রশাসন পদক বিতরণ অনুষ্ঠানে সরকারের ভবিষ্যত পরিকল্পনাও তুলে ধরেন। বলেন, তিনি এমন ব্যবস্থা করতে চান যেখানে মানুষ স্বল্প সময়ে ঢাকায় এসে কাজ করে আবার সহজে এবং স্বল্প সময়ে রাজধানী ছেড়ে বাড়িতে ফিরতে পারে।

রাজধানী ঢাকার যানজটের কথা তুলে ধরে মাত্রাতিরিক্ত জনসংখ্যা সরিয়ে দেয়ার কথা জানান শেখ হাসিনা। বলেন, ‘‘ঢাকায় যাতায়াত করার জন্য দ্রুত গতিসম্পন্ন কমিউটিং সিস্টেম তৈরি করে মাল্টিস্টোরেড বিল্ডিং করে করে নতুন নতুন নগর তৈরি করতে পারে। যেহেতু আমাদের লোকসংখ্যা বেশি জায়গা কম, আমাদের এভাবেই চিন্তা করতে হবে একই জায়গায় অনেক লোককে কীভাবে রাখতে পারি। এতে রাজধানীর ওপর চাপটা কম পড়বে।’

ভবিষ্যতে আমরা আর কী কী করতে চাই, সেই চিন্তাটা আমরা করে রেখেছি। যেমন রাজধানী ঢাকা, একটা দেশে যখন অর্থনৈতিক অগ্রগতি হয়, রাজধানীতে প্রচণ্ড চাপ পড়ে। এই চাপটা কীভাবে আমরা নেব এবং চাপটা থেকে কীভাবে মুক্তি পাব। এখন আমরা রাস্তাঘাট করছি, ওভারব্রিজ তৈরি করছি। আমরা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে করছি, এমআরটি করছি, মেট্রোরেল করছি, ঠিক সেইভাবে চিন্তা করছি, ভবিষ্যতে রাজধানীকে কেন্দ্র করে অতি অল্প সময়ের মধ্যে সমগ্র বাংলাদেশে যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু করা।’

‘ঢাকা থেকে যেন এক ঘণ্টার মধ্যে চট্টগ্রাম যেতে পারি, সে জন্য দ্রুতগতির ট্রেন, বুলেট ট্রেন করতে পারি। ঢাকা থেকে সিলেট, ঢাকা থেকে দিনাজপুর, ঢাকা থেকে বরিশাল হয়ে পায়রা বন্দর, ঢাকা থেকে কলকাতা দ্রুত ট্রেন যদি চালু করে দিতে পারি, তাহলে বাংলাদেশে যোগাযোগ ব্যবস্থাটা অত্যন্ত দ্রুত হবে।’

‘পুরো ঢাকাটা ঘিরে আমরা রিং রোড করব, এলিভেটেড রিং রোড। এটা পিলারের ওপরে হয়ে যাবে, খুব বেশি জমি নষ্ট হবে না। সেই সাথে সাথে নদীগুলো খনন করে নৌপথ তৈরি করা; সাথে সাথে রেলপথ তৈরি করা।’

রাজধানীর যানজটকে অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রভাব হিসেবেও দেখছেন প্রথধানমন্ত্রী। বলেন, ‘যানজট আমাদের জন্য বিরাট সমস্যা। অন্যদিকে দেখতে গেলে এটা আমাদের অর্থনৈতিক অগ্রগতিরই ধারা বলে আমি মনে করি।’

‘আমাদের অর্থনৈতিক অগ্রগতি যেভাবে হচ্ছে স্বভাবতই মানুষের গাড়ি কেনার সামর্থ্যটা বাড়ছে। একটা গাড়ি আগে কিনতে পারত না, সে এখন দুইটা গাড়ি ব্যবহার করে। যার দুইটা ছিল, এখন সে তিনটা গাড়ি ব্যবহার করে। এ রকম তো হচ্ছে।’

গণপরিবহনের ক্ষেত্রে বিমান চলাচলকেও গুরুত্ব দিতে চান প্রধানমন্ত্রী। এজন্য চট্টগ্রাম, সৈয়দপুর, সিলেট, বরিশাল বিমানবন্দরকে আরও উন্নত করবেন তিনি।

সেই সঙ্গে কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার পাশাপাশি সেখানে রিফুয়েলিং এর ব্যবস্থা করার ঘোষণা দেন শেখ হাসিনা। বলেন, ‘আমরা এয়ার রুটে পড়ি, এখানে আমাদের বিরাট সম্ভাবনা আছে। আমরা অনেক বৈদেশিক অর্থ উপার্জন করতে পারব। ইতিমধ্যে কাজ আমরা শুরু করে দিয়েছি।’

১০০টা অর্থনৈতিক অঞ্চল আমরা গড়ে তোলার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এসব অঞ্চলে ব্যাপক কর্মসংস্থান হবে। সেই সঙ্গে সঙ্গে ব্যাপক নগরায়ন হবে। প্রত্যেকটা গ্রামকে আমরা নগরে উন্নীত করব।’

‘বাংলাদেশকে কেবল ২০২১ সাল বা ২০৪১ সাল পর্যন্ত না, ২১০০ সালে বাংলাদেশ কেমন হবে, সেটা মাথায় রেখে আমরা ডেল্টা চুক্তি করেছি নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে।’

সরকারি কাজে অটোমেশনের উদ্যোগ তুলে ধরে ভবিষ্যতে গণপরিবহনেও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। ই ফাইলিং, ই গভার্নেন্স, ই টেন্ডারিং, জরুরি সেবা ৯৯৯ চালু, নারীদের নিরাপত্তায় হটলাইন চালুর কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘যখন আমি বিদেশে থাকি, ডিজিটাল পদ্ধতিতেই ফাইল সই করে পাঠাই।’

সরকারের নানা উদ্যোগ তুলে ধরে ভবিষ্যতে যেন তা থেমে না যায়, সে দিকেও নজর রাখার তাগিদ দেন শেখ হাসিনা। বলেন, ‘আগামী ডিসেম্বরে জনগণ ভোট দিলে আছি, না দিলে নাই, এ নিয়ে আক্ষেপ নাই। বাংলাদেশকে যে উন্নয়নের মহাসড়কে আমরা তুলে দিলাম, এই যাত্রা যেন অব্যাহত থাকে, আপনাদের কাছে সেটাই আমার আকাঙ্ক্ষা, সেটাই আমার দাবি, সেটাই আমি চাই।’

One response to “ঢাকায় মানুষের চাপ কমাতে প্রধানমন্ত্রীর যত পরিকল্পনা”

  1. Nice post. I learn something new and challenging on sites I stumbleupon everyday.

    It’s always useful to read content from other writers and use a little something from their websites.

Leave a Reply

Your email address will not be published.

     এ বিভাগের আরো সংবাদ
Share via
Copy link
Powered by Social Snap
%d bloggers like this: