আজ ১৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৩রা ডিসেম্বর, ২০২০ ইং

হবিগঞ্জে ৬৪৮টি মন্ডপে চলছে দূর্গোৎসবের প্রস্ততি

আর মাত্র কয়েকদিন বাঁকি। এর পরই শুরু হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দূর্গাপূজা। পূজাকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন হবিগঞ্জ জেলার প্রতিমা তৈরীর কারিগর’রা। একই সাথে শরতের দূর্গোৎসবকে পরিপূর্ণভাবে সাজাতে দিনরাত ব্যাপি মন্দিরগুলোতে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি।
এ বছর জেলার ৯টি উপজেলায় মোট ৬৪৮টি পূজামন্ডপে দূর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে।
আসছে আগামী ১৫ই অক্টোবর দেবী বোধনের মাধ্যমে পূজার সূচনা হবে। ১৯ অক্টোবর প্রতিমা বিসর্জনে মধ্যে দিয়ে শেষ হবে পাঁচদিনের শারদীয় দূর্গোৎসব।
হবিগঞ্জ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জেলার ৯টি উপজেলা ও ৫টি পৌরসভাসহ ৬৪৮টি মন্ডপে শারদীয় দূর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে সার্বজনীন ৬৪৮টি এবং ব্যক্তিগত ১৬টি। এরমধ্যে হবিগঞ্জ পৌরসভায় ৩৬টি, সদর উপজেলায় ৪৯টি, শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভায় ৬টি, লাখাই উপজেলা ৬৬টি, আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় ৩৭টি, বানিয়াচং উপজেলায় ১১৮টি, চুনারুঘাট উপজেলায় ৭১টি, চুনারুঘাট পৌরসভায় ৮টি, মাধবপুর উপজেলায় ১০৬টি, মাধবপুর পৌরসভায় ১২টি, বাহুবল উপজেলায় ৪৯টি, নবীগঞ্জ উপজেলায় ৮২টি, নবীগঞ্জ পৌরসভায় ৮টি। গত বছরের তুলনায় এ বছর ৩০টি মন্ডপ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানালেন পূজা উদযাপন পরিষদ।
বিভিন্ন মন্দিরে গিয়ে আয়োজকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এবারের একটি প্রতিমা তৈরীতে কারিগরদেরকে ৩০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত মজুরি দিতে হচ্ছে। এছাড়া আলোকসজ্জা, তোরণ ও প্যান্ডেল তৈরীতে বিপুল পরিমাণ টাকা ব্যয় হবে। বিগত বছরের তুলনায় এ বছর প্রতিমা তৈরীতে দ্বিগুন ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানালেন আয়োজকরা।
তবে অন্য বছরের তুলনায় বেশি মজুরি পেয়েও খুশি নন কারিগররা। তাদের দাবি বর্তমান বাজারে মূর্তি তৈরীর সরঞ্জামের দাম বেশি। তাই মজুরি বেশি পেয়েও লাভ হচ্ছে না।
হবিগঞ্জ পুরাণ বাজার মূর্তি ঘর’র কারিগর বিকাশ পাল জানান, শারদীয় দূর্গোৎসবের ১৪টি প্রতিমা তৈরীর কাজ আমরা পেয়েছি। পৌর এলাকায় ৭টি এবং হবিগঞ্জ জেলার বাহিরে ৭টি। আমরা ৫/৬ জন কারিগর মিলে প্রায় ৩ মাস যাবৎ কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের প্রতিমাগুলো বিক্রি হচ্চে ৫৫ থেকে ৬০ হাজার টাকা এবং সর্বনিম্ন বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকায়। তবে সবগুলো প্রতিমার মাটির কাজ শেষ। এখন শুরু হবে সাজসজ্জার কাজ। আশাকরি ৪/৫ দিনের মধ্যে প্রতিমার কাজ শেষ করে ফেলব। তাই আমাদের শেষ মর্হুতের বিভিন্ন ডিজাইন ও কারু কাজের মাধ্যমে প্রতিমার তৈরীতে কাজ চলছে।
হবিগঞ্জ পৌর এলাকার বগলা বাজার গোপাল জিউর আখড়া সার্বজননী পূজা মন্ডপের সাধারণ সম্পাদক দীপু রায় আবু জানান, দূর্গা পূজা সার্বজনীনভাবে প্রতি বছর উদযাপিত হয়। হিন্দু, মুসলিম, খ্রিষ্টান, সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণে মিলনমেলা পরিণত হয়। সবাই সহযোগিতাও করেন। তাই প্রশাসনের সহায়তায় এবারের দূর্গাপূজাও সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্নভাবে উদযাপিত হবে বলে মনে করি।
পৌর এলাকার যশের আব্দা ত্রী-সন্ধা সংসদের সাধারণ সম্পাদক জীবন দাশ বলেন, দূর্গাপূজা পরিচালনার লক্ষ্যে সরকার থেকে কিছু অনুদান আমরা পেয়ে থাকি। তবে তা সামান্য। তাই পূজা পালনের জন্য সরকারি অনুদান হিসাবে আগামীতে বৃদ্ধি করতে জেলা প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষে প্রতি অনুরোধ জানান।
 এবারও পৌর এলাকার ৩২টি পূজা মন্ডপে ৫ হাজার টাকা করে মোট ১ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা পূজা কমিটির নেতৃবৃন্দের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেওয়া হয়েছে। আগামীতে দূর্গাপূজা পরিচালনার লক্ষ্যে অনুদান দ্বিগুন করা হবে বলে জানান মেয়র জিকে গউছ।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অনুপ কুমার দেব (মনা) জানান, প্রশাসনের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে। আমরা বিভিন্ন উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাথে সভা করেছি। সবমিলিয়ে পূজা উদযাপন পরিষদ নেতারা সার্বিক তদারকি করছেন।
তিনি বলেন- যেহেতু এটি নির্বাচনি বছর। সেহেতু পূজা নিয়ে আমরা কিছুটা শংঙ্কিত। তবে আশা করি সুষ্ঠুভাবে দূর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।
হবিগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল­্যা জানান, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা উৎযাপনের জন্য পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। শারদীয় দূর্গোৎসব চলাকালিন যাতে কোন প্রকার ক্ষতি না হয় সেজন্য আয়োজক কমিটিকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে এবং পুলিশ প্রশাসনে টহল টিম সতর্ক রয়েছে। হিন্দু  ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে।
তিনি বলেন- নির্বাচনি বছর বিবেচনায় অন্য বছরের তুলনায় এ বছর নিরাপত্তা ব্যবস্থা বেশি জোরধার করা হয়েছে। আশা করছি প্রতি বছরের মতো এবারও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসব পালিত হবে।

Comments are closed.

     এ বিভাগের আরো সংবাদ
Share via
Copy link
Powered by Social Snap
%d bloggers like this: