আজ ১১ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৫শে নভেম্বর, ২০২০ ইং

আমি কি আর বাঁচবাম? ডাক্তার কইছে আমার ক্যান্সার আইছে – বৃদ্ধা আমেনা

নেত্রকোনা    কেন্দুয়া ক্যান্সার অাক্রান্ত বৃদ্ধা অামেনা খাতুনের কথা ‘বাবা, আর সয় না। কষ্ট কইরাইতো মরতে অইবো। আমি কি আর বাঁচবাম? ডাক্তার কইছে, আমার ক্যান্সার অইছে। বড়লোকের রোগ আমরার মত গরীবের অইছে। মরবাম। যদি না বাঁচি, তয় মরণ যেন তাড়াতাড়ি অয়।’ কথাগুলো বলছিলেন, নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার রোয়াইলবাড়ি ইউনিয়নের ফতেপুর কান্দাপাড়া গ্রামের ক্যান্সার আক্রান্ত একজন বৃদ্ধা মা আমেনা খাতুন।

আমেনা খাতুনের স্বামী গিতালু মিয়া মারা গেছেন অনেক আগেই। অভিভাবকহীন সংসারে দুই সন্তানের জননী আমেনা অর্থাভাবে তিন বছর যাবৎ বিনা চিকিৎসায় ক্যান্সারের সাথে সংগ্রাম করে যাচ্ছেন। অভাবের সংসার, কায়িক শ্রমের উপর নির্ভরশীল পরিবারটির যেখানে দুবেলা দুমুঠো খাবার  যোগাড় করাই সম্ভব হয়ে উঠেনা, সেখানেই বাসা বেধেছে মরণব্যাধি ক্যান্সার। চিকিৎসা মৌলিক অধিকার হলেও অর্থাভাবে আমেনা খাতুন আজ অসহায়।

একদিকে অর্থকষ্ট এবং অন্যদিকে মরণব্যাধি ক্যান্সার আজ আমেনা খাতুনের জীবনকে থামিয়ে দিয়েছে। অসুস্থ হওয়ার পর জীবনের শেষ সম্বল যা ছিল তা দিয়ে চিকিৎসা করাতে গিয়ে আমেনা খাতুন জেনেছেন তার গলার টিউমার থেকেই তিনি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছেন। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক অধ্যাপক সমরেশ চন্দ্র কুন্ডু আমেনাকে জানিয়েছেন, অপারেশন না করালে অসুখ সারবে না। আর অপারেশন করতে হলে প্রয়োজন ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা।

বৃদ্ধা আমেনা খাতুনের ছেলে আবু হানিফা শ্রমিক হিসেবে কাজ করে যা উপার্জন করেন তা দিয়ে সংসারই চলে না। তাই অর্থাভাবে মায়ের চিকিৎসাটুকুও তিনি করাতে পারছেন না। এদিকে আমেনা খাতুনের গলার ক্যান্সারের কারণে গলা অস্বাভাবিকভাবে ফুলে গেছে। কণ্ঠ ভারী হয়ে  গেছে এবং মুখ ফ্যাকাসে হয়ে গেছে। এখন ক্রমশই তার শরীর নিস্তেজ হয়ে যাচ্ছে।

ক্যান্সার আক্রান্ত বৃদ্ধা আমেনা খাতুন আক্ষেপ করে বলেন, ‘কষ্ট আর সয় না। যদি না বাঁচি, তয় মরণ যেন তাড়াতাড়ি অয়। খুব কষ্টে আছি।’ এ সময় বাঁচার জন্য তিনি আফসোস করেন। কিন্তু বাঁচার কোনো অবলম্বন খোঁজে পাচ্ছেন না তিনি। বারবার হারিয়ে যাচ্ছেন দিশাহীন অতল জলে।

অসহায় বৃদ্ধা আমেনা খাতুন কি চিকিৎসার অভাবে ক্যান্সার আক্রান্ত জীবনের কাছে হেরে যাবেন- এ প্রশ্ন এখন তার পরিবার ও এলাকাবাসীর মনে।
> বৃদ্ধা আমেনা খাতুনের বেঁচে থাকার তীব্র আকাঙ্খা ও আফসোস থাকার পরও ব্যয়বহুল চিকিৎসার ক্ষমতা তার নেই। তাই তার চিকিৎসার জন্য সাংবাদিকদের মাধ্যমে সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।

স্থানীয় শিক্ষার্থীদের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন প্রতিভা পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা আশরাফ সুরুজ জানান, অসহায় বৃদ্ধা মা আমেনা খাতুন আজ চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুর সাথে সংগ্রাম করছেন। তাই ওই মাকে বাঁচাতে সমাজের বিত্তশালীদের সহায়তা খুব জরুরি।

স্থানীয় রোয়াইলবাড়ি আমতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এসএম ইকবাল রুমী জানান, ‘বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আপনাদের মাধ্যমে জানলাম। আমি আমেনা খাতুনের খোঁজ নেব এবং সাধ্য মত সহযোগিতা করব।’

Comments are closed.

     এ বিভাগের আরো সংবাদ
Share via
Copy link
Powered by Social Snap
%d bloggers like this: