আজ ২১শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৫ই ডিসেম্বর, ২০২০ ইং

আদালতে বিসিএস উত্তীর্ণ সিনথিয়ার জবানবন্দি

নেত্রকোনা কেন্দুয়ার অালোচিত ঘটনার অবসান ঘটিয়ে, অবশেষে নেত্রকোনা জেলা চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন, ৩৭তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ তাসলিমা সুলতানা সিনথিয়া।

সিনথিয়া তার জবানবন্দিতে বলেন, ‘আমাকে কেউ অপহরণ করেনি। প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে রাতুল হাসান বাবুর সাথে রেজিস্ট্রি কাবিনমূলে আমার বিয়ে হয়েছে।’ আদালতে দেওয়া সিনথিয়ার জবাববন্দির কপি থানা পুলিশের কাছে পৌছেছে বলে সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন কেন্দুয়া থানার ওসি ইমারত হোসেন গাজী।

জবানবন্দি গ্রহণের পর আদালত সিনথিয়াকে নিজের জিম্মায় ছেড়ে দেন বলেও জানান ওসি।

গত সোমবার (২৪ সেপ্টেম্বর) তাসলিমা সুলতানা সিনথিয়া নিজেই নেত্রকোনার চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে ওই জবানবন্দি দেন বলেও নিশ্চিত করে কেন্দুয়া থানা পুলিশ।

এর আগে গত ১৯ সেপ্টেম্বর সিনথিয়ার মা রাজিয়া সুলতানা বাদী হয়ে প্রয়াত পৌর মেয়র প্রয়াত আব্দুল হক ভূইয়ার ছেলে রাতুল হাসান বাবুসহ ৫ জনকে আসামী করে কেন্দুয়া থানায় একটি অপহরণ মামলা করেন।

মামলা  দায়েরের পর রাতুল হাসান বাবু ও তাসলিমা সুলতানা সিনথিয়াকে নিয়ে শুরু হয় নানা রকম আলোচনা-সমালোচনা। এ ঘটনায় বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর আলোচনা আরো তীব্র হয়ে উঠে।

রাতুল হাসান বাবুর পরিবার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ৩৭তম বিসিএস উত্তীর্ণ তাসলিমা সুলতানা সিনথিয়ার সঙ্গে প্রয়াত মেয়র আব্দুল হক ভূইয়ার ছোট ছেলে রাতুল হাসান বাবুর দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক চলে আসছিল। একে অপরকে ভালোবেসে একপর্যায়ে তারা চলতি বছরের ১১ আগস্ট ঢাকায় রেজিস্ট্রি কাবিনমূলে বিয়ে করে।

কিন্তু বিয়ের ১ মাসেরও বেশি সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর গত ১৯ সেপ্টেম্বর সিনথিয়ার মা রাজিয়া সুলতানা বাদী হয়ে রাতুল হাসান বাবুসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে কেন্দুয়া থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন এবং পরদিন ২০ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সিনথিয়ার মা রাজিয়া সুলতানা ও বাবা সুলতান আহম্মেদ তার কন্যা সিনথিয়াকে উদ্ধারের দাবিতে থানায় অবস্থান নেন।

মামলার এজাহারে বাদী রাজিয়া সুলতানা উল্লেখ করেন, গত ১৮ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কেন্দুয়া পৌর শহরের আরামবাগের বাসা থেকে রাতুল হাসান বাবুসহ অন্যরা তার কন্যা সিনথিয়াকে  অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে নিয়ে যায়।

মামলা দায়েরের পর রাতুল হাসান বাবুর চাচা ও কেন্দুয়া পৌরসভার বর্তমান মেয়র আসাদুল হক ভূইয়া সাংবাদিকদের জানান, এটি কোনো অপহরণের ঘটনা নয়। ছেলে-মেয়ে দুজনে মিলে ১১ আগস্ট তারা ঢাকায় বিয়ে। বিয়ের পর সিনথিয়া তার বাবার বাড়িতে যায়। সিনথিয়াকে বধূ হিসেবে বরণ করার জন্য মেয়েপক্ষের কাছে ছেলেপক্ষ প্রস্তাব দেয়। কিন্তু সেই প্রস্থাব প্রত্যাখান করে মেয়ের মা উল্টো থানায় অপহরণ মামলা করেন।

Comments are closed.

     এ বিভাগের আরো সংবাদ
Share via
Copy link
Powered by Social Snap
%d bloggers like this: