আজ ১০ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৫শে নভেম্বর, ২০২০ ইং

কেন্দুয়ায় স্কুল ছাত্র জনি হত্যার ঘটনায় মা গ্রেফতার  ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে অাদালতে অাবেদন

নেত্রকোনা কেন্দুয়া চরম শত্রুতা সাধনে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতেই কেন্দুয়া গগডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র জনিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার পর গুম করার জন্য লাশ বস্তাবন্দি করে পুকুরে ফেলে রাখা হয়। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে গগডা গ্রামের তমিজ উদ্দিন ফকিরের (তমু ফকির) ছেলে সবুজ মিয়া (৩০) এ চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করে। পরে আদালতে ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকটও সবুজ মিয়া স্কুল ছাত্র জনির চাঞ্চল্যকর হত্যার তথ্য প্রদান করেছে।

জনি হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কেন্দুয়া থানা পুলিশের এস.আই সামেদুল হক বুধবার জানান, সবুজ মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের পর তথ্যের সূত্র ধরে স্কুল ছাত্র জনির মা মেহেরা আক্তার এবং একই গ্রামের মৃত আবু ফকিরের ছেলে সনতু মিয়াকে (৪৫) মঙ্গলবার আটক করা হয়েছে। তাদের দুজনকেই জিজ্ঞাসাবাদের পর অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেড়িয়ে আসে। বুধবার দুপুরে তাদেরকে নেত্রকোনা আদালতে পাঠানো হয়েছে। জনির মা মেহেরা ও তার সহযোগী সনতু মিয়াকে আরো জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে ৭ দিনে রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন ওই তদন্তকারী কর্মকর্তা।

চলতি বছরের গত ৭ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বিকালে নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় বলে প্রচার দেয় জনির মা মেহেরা আক্তার। নিখোঁজ সন্তানের সন্ধান পেতে জনির বাবা আব্দুস সোবহান ঢাকা থেকে বাড়িতে এসে শনিবার সারাদিন এলাকায় মাইকে প্রচার করে। রোববার সকালে জনির বড় বোন রতœা আক্তার (১৬) তাদের বাড়ির সামনে আব্দুল বারেকের পুকুরে একটি চটের বস্তা ভেসে থাকতে দেখে বাড়ির লোকজনকে খবর দেয়। লোকজন বস্তাটিকে পাড়ে ভিড়াতে টান দেয়া মাত্রই বস্তার মুখ খুলে একটি মানুষের হাত বেড়িয়ে আসে। এ ঘটনাটি পুলিশকে জানালে, নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মোহাম্মদ শাহজাহান মিয়ার নেতৃত্বে ওই দিন দুপুরে আব্দুল বারেকের পুকুর থেকে একটি বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। লাশ দাফন কাফনের পর জনির বাবা আব্দুস সোবহান বাদী হয়ে ১১ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার কেন্দুয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় উল্লেখ করেন, একই গ্রামের মৃত শাহেদ বেপারীর ছেলে বাচ্চু, বাবুল, মাজু মুন্সি ও মৃত আরাফাত আলীর ছেলে রইছ উদ্দিন এবং সাইফ উদ্দিনের সঙ্গে জমি জমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধের  ঘটনায় তাদের সঙ্গে শত্রæতা চলে আসছিল। এই শত্রæতার ফলেই তারা জনিকে হত্যা করতে পারে বলে তার সন্দেহ। পুলিশ বাবুল, বাচ্চু, মাজু মুন্সি, রইছ উদ্দিন, সাইফ উদ্দিনকে ও সবুজ মিয়াকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদের পর ৫ জনকে ছেড়ে দিলেও সবুজ মিয়াকে আদালতে পাঠানো হয়। সবুজ মিয়া পুলিশের কাছে ও আদালতে স্কুল ছাত্র জনিকে হত্যার ঘটনার তথ্য প্রকাশ করে। প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে চরম শত্রæতা সাধনের জন্যই জনিকে হত্যা করে তার লাশ বস্তাবন্দি করে পুকুরে ফেলে রাখা হয় বলে সে জানায়।

নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মোহাম্মদ শাহজাহান মিয়া বলেন, জনির মা মেহেরা এই হত্যাকন্ডের সঙ্গে জড়িত বলেই ধারনা করা হচ্ছে। তাকে এবং তার অপর সহযোগী সন্তু মিয়াকে আরো জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। উল্লেখ্য আজ থেকে ১১ বছর আগে জনির জন্মের ১ দিন পর তার নিঃসন্তান চাচা আব্দুল ক্বারীর হাতে তাকে তুলে দেয়া হয়। জনির বাবা আব্দুস সোবহান কেন্দুয়া উপজেলার মোজাফরপুর ইউনিয়নের গগডা আটকান্দিয়া গ্রামে বসবাস করলেও জনির পালিত বাবা আব্দুল ক্বারী কেন্দুয়া পৌর এলাকার চন্দগাতী গ্রামে বসবাস করেন। জনির পালিত মা ঝরনা আক্তার তাকে সন্তান ¯েœহে এতদিন লালন পালন করেন। ৬ মাস আগে তিনি জনিকে তার গর্ভধারিনী মা মেহেরা আক্তারের কাছে রেখে তিনি সৌদি আরবে গৃহকর্মীর কাজ নিয়ে চলে যান। পারিবারিক সূত্র জানায় মোবাইল ফোনে তিনি জনি হত্যার খবর পেয়ে দেশে ফিরছেন। আগামী ২/১ দিনের মধ্যেই তিনি তার নিজ বাড়িতে এসে তার ছেলে হত্যার বিচার দাবী করবেন বলেও জানাগেছে।

১৭ responses to “কেন্দুয়ায় স্কুল ছাত্র জনি হত্যার ঘটনায় মা গ্রেফতার  ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে অাদালতে অাবেদন”

  1. I’m really impressed with your writing skills as well as with
    the layout on your blog. Is this a paid theme or did you customize it
    yourself? Anyway keep up the excellent quality writing, it’s rare to see a nice blog like
    this one today.

  2. hey there and thank you for your info – I’ve definitely picked up anything new from right here. I did however expertise a few technical points using this website, as I experienced to reload the site many times previous to I could get it to load properly. I had been wondering if your web host is OK? Not that I am complaining, but slow loading instances times will sometimes affect your placement in google and could damage your quality score if advertising and marketing with Adwords. Well I am adding this RSS to my email and can look out for much more of your respective fascinating content. Make sure you update this again soon..

  3. FrankCrync says:

    ed remedies do i have ed ed pills comparison: arbitracker.org

Leave a Reply

Your email address will not be published.

     এ বিভাগের আরো সংবাদ
Share via
Copy link
Powered by Social Snap
%d bloggers like this: