আজ ৯ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২২শে জানুয়ারি, ২০২১ ইং

কুয়াকাটার শাহ জালাল’র আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন পূরণ

শাহ জালালের স্বপ্ন ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘গ’ইউনিটে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ভর্তি হবার। বিবিএ এমবি পাশ করে ব্যাংকের বড় কর্মকর্তা হয়ে জেলে পরিবারে সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনবে। কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছার জন্য বরাবরই সেই অনুযায়ী শাহ জালালের প্রস্তুতি ছিল। তিনি ২০১৬ সালে মহিপুর কো-অপ্ট মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পায়। চলতি বছর পুনরায় কুয়াকাটা খানাবাদ কলেজে থেকে ব্যবসায় শিক্ষা শাখা থেকে জিপিএ-৫ পাওয়ায় মনোবল আরোও একধাপ বেড়ে যায়। তার স্বপ্ন জাগে দেশের বড় বিদ্যাপিঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পড়বে। ভর্তি পরীক্ষা উর্ত্তীর্ণ হবার জন্য সেই অনুযায়ী গত তিনমাসে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে শাহ জালাল। সোমবার দুপুরে ‘গ’ ইউনিটের ফল প্রকাশ পেলে শাহ জালালের মেধা তালিকায় অবস্থান হয় ৭০ তম। এমন সংবাদে তার জন্মভুমি খাজুরা জেলে পল্লী ও কুয়াকাটা খানাবাদ কলেজের শিক্ষার্থীদের মাঝে আনন্দের বন্যা বইতে দেখা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শাহ জালালের পিতা দুলাল আকন পেশায় জেলে। ২ ছেলে, ১ মেয়ে ও স্ত্রীর মুখে দু’বেলা দুমুঠো খাবার তুলে দিতে দিন রাত হাঁড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করতে হয় দুলাল আকনকে। এজন্য বছরের পুরো সময়ই বঙ্গোপসাগরে থাকতে হয় তাকে। ছেলের পড়াশুনার খবর নেবার ফুসরত নেই তার। সময় থাকলেই বা কি! তিনি তো পড়াশুনা করেন নি। বছরে একটি জামা কিনে দিতে পারেন নি দরিদ্র বাবা। দু’মুঠো ভাল খাবার তুলে দিতে না পারায় ছোট বেলা থেকেই অন্যের বাড়িতে লজিং থেকে পড়াশুনা করেতে হয় শাহ জালালকে।

হাজারো প্রতিকূলতা, কোন বাঁধাই রুখতে পারেনি জেলে পরিবারের সন্তান অদম্য মেধাবী শাহ জালালকে। শাহ জালালের অদ্যম ইচ্ছা শক্তিই জেলে বাবা দুলাল আকনের হাতিয়ার। ছেলেকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলার স্বপ্নে বিভোর বাবা ধার লোনও দাদনের টাকায় ঢাকায় পাড়িয়েছিলেন। ছেলের এমন ধারবাহিক সাফল্যে বাবা দুলাল আকন খুবই আনন্দিত। জেলে পল্লী, কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও আত্মীয় স্বজনদের বাড়িতে মিষ্টি বিতরণ করেছেন শাহ জালালের বাবা। তিনি আনন্দে কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, মুই তো ল্যাহাপড়া বুঝিনা। পোলায় (ছেলে) ছোট্রকাল হইতে পরের বাড়ি লজিন থ্যাকইয়া পড়ালেখা হরচে। তয় সামনে ওরে আরও লেহাপড়া হরামু।

আকাশ ছেঁয়ার গল্প শুনতে চাইলে মেধাবী শিক্ষার্থী শাহ জালাল বলেন, প্রবল ইচ্ছা শক্তি থাকলে মানুষকে কোন প্রতিকুলতা রুখতে পারে না । ইচ্ছা ছিল ঢাবিতে পড়ব-পড়বই সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নিয়েছি সফল হয়েছি। বাবা মার স্বপ্ন পূরণের লক্ষে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করে তাদের মুখে হাসি ফোটাতে চাই।

কুয়াকাটা খানাবাদ ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সিএম সাইফুর রহমান খান বলেন, শাহ জালালের এ সাফল্য কলেজের চলমান শিক্ষার্থীদের মনোবল ও অনুপ্রেরণা জোগাবে। সত্যিই শিক্ষকদের ভাল লাগার জায়গাটাই স্পষ্ট যখন কোন শিক্ষার্থী সফল হয় তখন ভাবনার জায়গাটা তৈরী হয়। ওরাই তো আগামীর বাংলাদেশ আমাদের প্রতিনিধিত্ব করবে। আগামীর জন্য মানবতার কল্যানে কাজ করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

     এ বিভাগের আরো সংবাদ
Share via
Copy link
Powered by Social Snap
%d bloggers like this: