আজ ৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৩শে নভেম্বর, ২০২০ ইং

গণধর্ষণ; মাথা ন্যাড়া করেও শেষ রক্ষা হয়নি কিশোর গ্যাং প্রধান সারুফের

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সাভারে আলোচিত গণধর্ষণের পর ভিডিও ধারনের ঘটনায় মাথা ন্যাড়া করে নিজের চেহারা পরিবর্তনের চেষ্টা করেও শেষ রক্ষা হয়নি প্রিন্স নামের কিশোর গ্যাংটির প্রধান সারুফের। অবশেষে নিজের বাবাই বাধ্য হলেন তাকে পুলিশের হাতে তুলে দিতে। যদিও তার বাবা আকরাম মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ধামাচাপা দিতে চেয়েছিলেন এই ঘটনা।

আশুলিয়ার সবচেয়ে ঘনবসতি এলাকা ভাদাইল। দুটি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ জোন পাশেই গড়ে ওঠায় শ্রমিকদের বেশিরভাগ এই এলাকায় থেকে চাকরি করেন। অত্যন্ত ঘনবসতি হওয়ার কারনে এলাকাটি একরকম বানিজ্যিক এলাকায় পরিনত হয়েছে। এই সুবাদে সেখানে দৌরাত্ব বেড়েছে বিভিন্ন রকম গ্যাং এর। গড়ে উঠেছে কিশোর গ্যাং। যারা প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় দিনে দুপুরে গণধর্ষণের মত জঘন্য অপরাধসহ জড়িয়ে পড়েছে বড় বড় অপরাধে।

গ্যাংয়ের নাম প্রিন্স! ডায়মন আলামিন, জাকির, পান রাকিব, আল-আমিন, জিদান, রেদওয়ানসহ প্রায় ১৫ থেকে ১৬ জনের এই গ্যাংয়ের নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলো প্রিন্স সারুফ। স্কুল খোলা থাকাকালীন সময়ে ছুটির পর তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকের মাধ্যমে একত্রিত হতো। করোনাকালে স্কুল বন্ধ থাকার সুবাদে তারা হয়ে ওঠে আরও বেপরোয়া। প্রায় এক মাস আগে আশুলিয়ার ভাদাইল এলাকায় তারা গণধর্ষণ করে ভিডিও ধারণ করে। সারুফের বাবা আকরাম গ্যাংয়ের প্রত্যেক সদস্যদের অভিভাবকের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে স্থানীয়ভাবে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। ঘটনা ধামাচাপা রাখতে সমর্থও হয়েছিলেন প্রায় ১ মাস। কিন্তু পাপকে ছাড়েনা বাপকেও! গ্যাংটির অভ্যন্তরীন কোন্দলে তাদের ধারণকৃত ভিডিও ফাঁস হয়ে যায়। ফেঁসে যা প্রিন্স নামের কিশোর গ্যাংটি। ভিডিও ফাঁস হওয়ামাত্র আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক আসওয়াত, এমদাদ ও সুদীপসহ তাদের টিম নামে তদন্তে। ভিডিওর সুত্র ধরে ও স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীর সহায়তায় ৭ অক্টোবর ভোররাতে অভিযান চালিয়ে প্রিন্স গ্যাংয়ের ৩ সদস্যকে আটক করতে সমর্থ হন তারা।

তবে সন্ধান মিলছিলো না গ্যাং প্রধান সারুফের। এদিকে গ্রেফতার এড়াতে মাথা ন্যাড়া করে নিজের চেহারার পরিবর্তন করার চেষ্টা করে সারুফ। মাথা ন্যাড়া করে সে খালার বাসা খুলনায় আত্মগোপনে চলে যায়। প্রথমে সারুফের বাবা আকরাম ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করলেও তিন সদস্য আটকের পর ছেলেকে ধরিয়ে দিতে রাজি হন। পরে সারুফের বাবাকে সাথে নিয়ে খুলনায় অভিযান চালায় পুলিশ। এসময় খুলনার হরিণটানা থানার গোল্লামারি হুবলাডাঙ্গা থেকে তাকে আটক করে পুলিশ।

সারুফের বাবা আকরাম বলেন, আমার দুই সন্তান সারুফ ও মারুফ। আমার ভাল ছেলে মারুফের জীবনে কোন দাগ লাগাতে চাই না। প্রয়োজনে পঁচা আঙ্গুল কেটে ফেলে দেবো (ছেলেকে ধরিয়ে দেবো)। পরে তিনি তার সন্তানের অবস্থান বলে দেন এবং সাথে গিয়ে তাকে ধরিয়ে দেন।

ভুক্তভোগীর চাচা আতোয়ার বলেন, আমারা এই এলাকায় চাকরি করার জন্য নতুন এসেছিলাম। আমার ভাতিজির কারখানা বন্ধ থাকায় তাদের সাথে নিয়ে ওই এলাকায় ঘুরতে যায়। এ সময় ১২ থেকে ১৪ জন আমাদের ঘিরে ফেলে এবং আমাদের মারধর করে। আমার চোখে চোট লাগলে এদের মধ্যে দুই জন একটি স্থানে নিয়ে আমার মাথায় পানি ঢালে। আর ভাতিজিকে নিয়ে পাশে কোথাও চলে যায়। প্রায় দুই ঘন্টা পর তারা আমাদের ছেড়ে দেয়।

এব্যাপারে আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক সুদীপ কুমার গোপি বলেন, ভিডিও ফাঁস হওয়ার সাথেই আমরা তদন্তে নামি। পরে ভিডিওর সূত্র ধরে ৭ অক্টোবর ভোর রাতে গ্যাংটির ৩ সদস্যকে আটক করা হয়। পরে খুলনায় অভিযান চালিয়ে গ্যাংটির প্রধান সারুফকে আটক করা হয়েছে। বাকিদের আটকের জন্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আটক সারুফ নড়াইল জেলার আকরামের ছেলে। সে বাবা-মার সঙ্গে আশুলিয়ার ভাদাইল এলাকায় থেকে খাজা গরিবে নেওয়াজ স্কুলে লেখাপড়া করতো।

প্রসঙ্গত, প্রায় ৩৫ দিন আগে চাচার সাথে ভাদাইলের গুলিয়ারচক এলাকায় ঘুরতে গেলে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা চাচাকে মারধর করে আটকে রেখে গণধর্ষণ করে শ্রমিক ভাতিজিকে। পরে মাথা ন্যাড়া করে নিজের চেহারা পরিবর্তনের চেষ্টা করে আত্মগোপনে যায় গ্যাং প্রধান সারুফ। ভিডিও ফাঁস হলে গ্যাং প্রধান সারুফসহ ৪ জনকে আটক করে পুলিশ।

Comments are closed.

     এ বিভাগের আরো সংবাদ
Share via
Copy link
Powered by Social Snap
%d bloggers like this: