আজ ৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৩শে নভেম্বর, ২০২০ ইং

সময় আর সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে পারবে কি আমাদের ছবিয়ালরা

আরিফুল ইসলাম বাবুঃ প্রথমে শুভ কামনা জানাই আমাদের গাইবান্ধার প্রিয় শ্রদ্ধাভাজন, সেহ্নভাজন ছবিয়ালদের। সম্প্রতি খবর পাড়ায় তাদের গতিশীল তৎপরতা প্রশংসনীয়। আর এটা সম্ভব হয়েছে সংবাদের প্রতি তাদের পেশা দারিত্ব সূলভ আচরণ এবং পরিশ্রমের কারনে। নিশ্চই তাদের কাজের এমন ধারা অব্যহত থাকবে এমনটাই আন্তরিক প্রত্যাশা। আমরা সংবাদকর্মী অনেকেই আমাদের সব থেকে জরুরী সঙ্গী ছবিয়ালদের যথাযথ মর্যাদা বা গুরুত্ব বেশিরভাগ সময় দিতে পারিনা। অথচ একটা ভাল সংবাদ আলোচিত হবার নেপথ্যে ছবিয়ালদের কৃতিত্ব অন্যতম। আমরা যারা ছবিয়ালদের গুরুত্ব না দেবার সংকীর্নতা থেকে বের হতে পারছিনা,

তাদের  উচিৎ হবে যত দ্রুত সম্ভব  এমন মানসিকতা পরিত্যাগ করা। আমাদের মানতে হবে একটা সংবাদ শুধু ভাল স্ক্রীপ্টের উপরই নির্ভর করেনা,বরং ঘটনার গল্পকে আকর্ষনীয় করে তোলে যথার্র্থ অর্থবোধক ছবি।  কাজেই একটা সফল সংবাদের সব থেকে বড় অংশীদার ঘটনার চিত্র ধারনকারী ছবিয়াল। তা সে স্থির বা চলমান ছবি যাই হোক না কেন। তবে এটাও সত্য যে কখনও কখনও কোন কোন চিত্র ধারনকারীকে কেমন ধরনের ছবি প্রয়োজন হবে তা নির্দেশনা দেবার পরও কাঙ্খিত ছবি পাওয়া যায়না,আবার কখনও চাওয়ার চেয়েও ভাল ছবি তারা উপহার দেন।

ইদানীং অধিকাংশ সময়ই একটা বিশেষ বিষয় নজরে আসে। তা হলো গুরুত্বপুর্ন,  ঝুঁকিপুর্ন সংবাদের ঘটনাস্থলে রিপোর্টারদের চেয়ে সম্মানিত ক্যামেরা পারসনদের উপস্থিতি অধিক থাকে। আবার তুলনামুলক কম গুরুত্ব বহন করে এমন কিছু ঘটনাস্থল,সংবাদ সম্মেলন,প্রেস ব্রিফিংয়ে রিপোর্টারদের
উপস্থিতি থাকে উপচেপড়া।এর কারনটা কি, তা অবশ্য আমরা রিপোর্টাররাই ভাল বলতে পারব। যদিও সঙ্গত কারনে তা লেখায় উল্লেখ করা যাচ্ছেনা। এদিকে যেসব গুরুত্বপুর্ন, ঝুঁকিপুর্ন  সংবাদের ঘটনাস্থলে আমরা যে রিপোর্টাররা  অনুপস্থিত থাকি, দেখা যায় পেশাগত স্বার্থেই  ছবির যোগাড় বাঞ্চনীয় হয়ে পড়ে। তখন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছবিয়ালদের শরণাপন্ন হওয়া ছাড়া গত্যন্তর থাকেনা।  কিন্তু ছবিয়ালদের কাছ থেকে ছবি সংগ্রহের পদ্ধতিতেও আমরা সততার পরিচয় দিতে অনেক সময় ব্যর্থ হই। সব কর্মেরই কিছু অলিখিত নীতিগত  বিষয় থাকে।   কিন্তু আমরা সে নীতি বিসর্জন দিয়ে সংশ্লিষ্ট রিপোর্টারকে পাশ কাটিয়ে   ছবিয়ালের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে  ছবি সংগ্রহ করি।  এতে করে রিপোর্টারের সাথে অপর রিপোর্টারের স¤পর্কের যেমন অবনতি হয়।  তেমনি ছবিয়ালরাও  কখনও কখনও নিজেদের অধিক গুরুত্বপুর্ন মনে  করে  পেশাদারিত্বের স্থানে  ভুল পথে  বড় হবার চেষ্টায় মেতে ওঠেন। তবে এতে নবীন  ছবিয়ালদের       এককভাবে  দ্বায়ী করা উচিৎ হবেনা।

কারন আমরা যে রিপোর্টাররা ঘটনাস্থলে অনেক সময়ই যাইনা, তারাই আমরা এমন ভুল পথে পরিচালিত করতে মনের অজান্তে হলেও তাদের সহযোগিতা করছি। কেমন করে, কিভাবে আমরা রিপোর্টাররা তাদের সহযোগিতা করছি সেটাও আমরা রিপোর্টাররাই ভালো জানি। আর সেই বিষয়টিও সংগত কারণে লেখা যাচ্ছে না। অথচ    আমরা সেই রিপোর্টাররা যখন সাংবাদকর্মীদের কোন আর্থিক সহযোগিতা প্রাপ্তি, কর্মশালা কিংবা কোন প্রশিক্ষনের জন্য তালিকা প্রস্তুত করবার মহান দায়িত্বপ্রাপ্ত হই, তখন  চিত্রধারনকারী অনেকের নাম খুব সচেতনভাবে এড়িয়ে যাই। যেন শুধু রিপোর্টার  প্রশিক্ষন গ্রহন করলেই হবে,ক্যামেরাপারসনের  প্রশিক্ষন কি প্রয়োজন রয়েছে ? অনেক সংবাদ স্থলে দেখা যায়, বিশেষ করে সরকারী উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাগণের কার্যালয়ের কোন সংবাদ আয়োজনে আমরা সম্মানিত রিপোর্টারগণ ক্যামেরা কাঁধে তুলে নিতে অস্বস্তি বোধ করি। সম্মান নষ্ট হতে পারে, গুরুত্ব কমে যেতে পারে মনে করি।তবে আমি যতটুকু মনে করি  ক্যামেরাপারসনদের সংবাদ লেখা না জানলেও না শিখলেও সমস্যা হয় না। কিন্তু রিপোর্টারদের ছবি নেবার যোগ্যতা থাকা বাঞ্চনীয়।  আমরা যারা সব পরিবেশে কাঁধে ক্যামেরা তুলে নিতে অসম্মানিত মনে করি তারা আর যাই হই সত্যিকারের রিপোর্টার হবার যোগ্যতা অর্জন করতে পারিনি। এখন মুলকথা হল,  সংবাদ জগতে এবং নিজেদেরকে ছবিয়াল থেকে রিপোর্টার হিসেবে  প্রতিষ্ঠিত করে তুলতে হলে সময়ের এই সুযোগকে ছবিয়ালদের নিজেদেরই কাজে লাগাতে হবে। পাশাপাশি সংবাদ লেখার কাজটিও তাদের শিখতে হবে।

পেশাদারিত্বের প্রতি মনোযোগী হয়ে নিজেকে যেমন স্বাবলম্বী করা  প্রয়োজন তেমনি দেশ ও সমাজের কল্যাণে কাজ করবার দায়িত্বও তাদের রয়েছে। দেশ ও মানুষের  কল্যাণের জন্য করা কাজ ছবিয়ালদের প্রতিষ্ঠায় অন্যতম ভূমিকা রাখতে পারে।

Comments are closed.

     এ বিভাগের আরো সংবাদ
Share via
Copy link
Powered by Social Snap
%d bloggers like this: