আজ ১১ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৬শে নভেম্বর, ২০২০ ইং

দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে পারিবারিক পুষ্টি বাগান

নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর রাণীনগরে মুজিব শতবর্ষে কৃষি উৎসব উপলক্ষ্যে স্থাপিত পারিবারিক পুষ্টি বাগান দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বর্তমানে সারা বিশ্ব মহামারি করোনা ভাইরাসের থাবায় আবদ্ধ। করোনা মহামারি, বন্যাসহ নানা আপদকালীন সময়ে যেনআমাদের দেশে সবজি উৎপাদনে কোন প্রভাব না পড়ে সেই লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া নির্দেশনা মোতাবেক দূর্যোগ মোকাবেলায় দেশকে খাদ্যে স্বয়ং সম্পন্নতা ধরে রাখতে প্রতি ইঞ্চি কৃষি জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দেশব্যাপী স্থাপন করা হচ্ছে এই পারিবারিক পুষ্টি বাগান।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে পুরো দেশ যখন লকডাউনে ছিলো তখন সবজি সরবরাহ ও উৎপাদনসহ নানা বিষয়ে চরম সংকটের সৃষ্টি হয়েছিলো। এছাড়াও সম্প্রতি হয়ে যাওয়া ৩বারের বন্যায় সবজির ক্ষেত নষ্ট হওয়ার কারণে যে সংকটের সৃষ্টি হয়েছে সেই সংকট
আগামীতে যেন বৃহৎ আকার ধারন না করে সেই লক্ষ্যে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার্বিক সহযোগিতায় উপজেলা পর্যায়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের
মাধ্যমে কৃষকদের তাদের ফেলে রাখা বাড়ির আঙ্গিনাসহ পতিত জমিতে পারিবারিক পুষ্টি বাগান তৈরি করতে উদ্বুদ্ধ করে আসছে। উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে ২৫৬জন কৃষকের বাড়িতে এই পারিবারিক পুষ্টি বাগান তৈরির পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

ইতিমধ্যেই অধিকাংশ বাড়িতে তৈরি করা হয়েছে এই বাগান। প্রতিটি পারিবারিক পুষ্টি বাগানে উৎপাদিত নানা রকমের বিষমুক্ত সবজি দিয়ে কৃষকরা নিজেদের প্রয়োজন মিটিয়ে অতিরিক্ত সবজিগুলো বাজারজাত করে বাড়তি অর্থও আয় করতে পারবেন। যার কারণে আপদকালীন সময়ে উপজেলায় কোন প্রকারের সবজির সংকটের সৃষ্টি হবে না। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে দেশের প্রতিটি উপজেলায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পারিবারিক পুষ্টি বাগান তৈরিতে কাজ করে আসছে।

এতে করে কৃষকরা সবজি উৎপাদনে স্বংয়সম্পন্নতা অর্জনের পাশাপাশি আর্থিক ভাবে স্বাবলম্বী হতে পারবেন। কাশিমপুর গ্রামের কৃষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন কৃষি অফিসের সার্বিক সহযোগিতায় আমার বাড়ির পাশে পড়ে থাকা পতিত জায়গায় পারিবারিক পুষ্টি বাগান তৈরি করেছি। এই বাগান তৈরির খরচ হিসেবে সরকারের কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে ১৯৩৫টাকা পেয়েছি। আমি অনেক উপকৃত হয়েছি।

বন্যায় আমার সবজির ক্ষেত পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। কিন্তু এই বাগান থেকে উৎপাদিত সবজি দিয়ে আমি বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবো। তাই সরকারকে অনেক অনেক ধন্যবাদ যে আমাদের মতো ক্ষতিগ্রস্থ্য কৃষকদের সহযোগিতা করছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শহীদুল ইসলাম বলেন বিভিন্ন আপদকালীন সময়ে কৃষকরা যেন ক্ষতির মুখে না পড়ে তাই বিকল্প পথ হিসেবে এই পারিবারিক পুষ্টি বাগান তৈরি করা হচ্ছে। আমরা প্রথমে কৃষকদের উব্ধুদ্ধ করেছি। এই বাগানের উপকারিতা সম্পর্কে তাদেরকে সচেতন করেছি। কিন্তু বর্তমানে উপজেলার কৃষকদের মাঝে এই পারিবারিক পুষ্টি বাগান ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। আমরা প্রতিটি বাগানে ১৬প্রকারের সবজির বীজ বিনামূল্যে সরবরাহ করেছি।

আশা রাখি আগামীতে উপজেলার প্রতিটি বাড়িতেই তৈরি হবে একটি করে পারিবারিক পুষ্টি বাগান। এতে করে উপজেলায় কোন আপদকালীন সময়ে কোন সবজির সংকট সৃষ্টি হবে না বলে আশি শতভাগ আশাবাদি।

Comments are closed.

     এ বিভাগের আরো সংবাদ
Share via
Copy link
Powered by Social Snap
%d bloggers like this: