আজ ১১ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৬শে নভেম্বর, ২০২০ ইং

করোনা ভাইরাসে যেভাবে মৃত্যু হয়

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত কিছু রোগী ‘সেপসিস’ পরিস্থিতিতে পড়ে মারা যাচ্ছেন৷ ঠিক কেন এই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়, এর ফলে কী হয়?
‘সেপসিস’ এমন একটি অবস্থা যখন প্রাণঘাতী কোনো জীবাণু একজন মানুষের দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়৷ এর ফলে শরীরের টিস্যুর ক্ষতি, বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গ বিকল হওয়া এবং সবশেষে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে৷
চলতি বছরের জানুয়ারিতে ল্যানসেট ম্যাগাজিনে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বে এক চতুর্থাংশ মৃত্যুর কারণ ‘সেপসিস’৷ ২০১৭ সালে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হারিয়ে মারা গেছেন চার কোটি ৮৯ লাখ মানুষ৷ ২০১৫ সালে শুধু জার্মানিতে এমন পরিস্থিতি ৭৫ হাজার মানুষের মৃত্যুর কারণ ছিল৷ সম্মিলিতভাবে কোলন, স্তন, ফুসফুস, প্রোস্টেট ক্যান্সারে মৃত্যুর চেয়েও এই সংখ্যাটি বেশি৷
‘সেপসিস’ এর উচ্চ ঝুঁকি সত্ত্বেও এই বিষয়ে জার্মানির দক্ষতা এবং অগ্রিম ধরা পড়ার হার অন্যান্য শিল্পোন্নত দেশগুলোর চেয়ে কম৷ এ কারণে জার্মান সেপসিস ফাউন্ডেশন ঝুঁকিতে থাকা রোগীদের ইনফ্লুয়েঞ্জা ও নিউমোনিয়ার সমস্ত টিকা নেয়ার পরামর্শ দিয়েছে৷
সেপসিসসের ঝুঁকিতে যারা
ডায়াবেটিস, ক্যান্সার, এইডসের মত রোগীদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা লোপ পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে৷ করোনা ভাইরাসের মৃত্যুরও বড় কারণ সেপসিস পরিস্থিতি৷ আগে থেকেই বিভিন্ন রোগে আক্রান্তরা এই ঝুঁকিতে সবচেয়ে বেশি থাকছেন৷ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চীনে করোনা ভাইরাসে যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে তেরো দশমিক দুই ভাগই হৃদরোগে ভুগছিলেন৷ নয় দশমিক দুই ভাগের ডায়বেটিস ছিল৷ আট দশমিক চার ভাগের ছিল উচ্চ রক্তচাপ৷ আট ভাগের দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসকষ্ট আর সাত দশমিক ছয় ভাগের ছিল ক্যান্সারের সমস্যা

সেপসিস আক্রান্ত কিনা কিভাবে বুঝবেন?
ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া অথবা ছত্রাক বিভিন্ন অণুজীব সেপসিস পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে৷ এর পেছনে যে রোগগুলো ভূমিকা রাখে তার মধ্যে রয়েছে নিউমোনিয়া, ক্ষত সংক্রমণ, মূত্রনালীর সংক্রমণ৷ পাশাপাশি ইনফ্লুয়েঞ্জাসহ অন্যান্য মৌসুমি ভাইরাস; যেমন করোনা ভাইরাস, ইবোলা, ইয়েলো ফিভার, ডেঙ্গু, সোয়াইন ফ্লু অথবা বার্ড ফ্লু ভাইরাসও রোগীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে নষ্ট করে দিতে পারে৷
শরীরের কিছু পরিবর্তনও এক্ষেত্রে দায়ী হতে পারে৷ রক্ত চাপ কমে যাওয়া ও সেই সঙ্গে হৃদ স্পন্দন বৃদ্ধি পাওয়া, জ্বর, ঘন ঘন শ্বাস নেয়া, হঠাৎ প্রচণ্ড অসুস্থবোধ হওয়া; এমন সব পরিস্থিতিও সেপসিসের লক্ষণ৷
চিকিৎসা কী?
অনেক ক্ষেত্রেই রোগীর এমন পরিস্থিতি ধরা পড়ে দেরিতে৷ এক্ষেত্রে রোগীকে হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখতে হয়৷ নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা, শরীরে রক্ত সঞ্চালন ব্যবস্থা ও ‘ভেন্টিলেশন’ নিশ্চিত করতে হয়৷ অনেক ক্ষেত্রে রোগীকে কৃত্রিম কোমায় রাখা হয়৷ রোগীর অঙ্গ প্রত্যঙ্গ সচল রাখতে দিতে হয় বিভিন্ন থেরাপি৷ কিন্তু এই ধরনের চিকিৎসা যথেষ্ট ব্যয়বহুল৷ শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই হাসপাতালগুলোতে বছরে ২৪ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয় রোগীদের৷
তার চেয়েও বড় বিষয়, আর্থিক স্বচ্ছলতা থাকলেও অনেক রোগীকেও এই সেবা দেয়া সম্ভব হয় না সীমিত সুযোগের কারণে৷ সেপসিস পরিস্থিতিতে চিকিৎসা নেয়া রোগীদের অর্ধেকই পরবর্তীতে বড় ধরনের আর কোনো সমস্যায় ভোগেন না৷ বাকি অর্ধেক হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরও বিভিন্ন সংক্রমণ, কিডনি বিকল হওয়া, হৃদযন্ত্রের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগতে পারেন৷ অনেকের দীর্ঘমেয়াদে শারীরিক ও মানসিক সমস্যা হতে পারে৷
তাই সেপসিস যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসা করানোই উত্তম৷ যত আগে তা ধরা পড়বে এবং চিকিৎসা করানো হবে তত বেঁচে থাকা সম্ভাবনা বাড়বে৷
আলেক্সান্ডার ফ্রয়েন্ড//এফএস

Comments are closed.

     এ বিভাগের আরো সংবাদ
Share via
Copy link
Powered by Social Snap
%d bloggers like this: