আজ ৪ঠা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৭ই এপ্রিল, ২০২১ ইং

একজন অজানা কবির কথা

আমাদের দেশে অনেক মেধাবী ব্যক্তি আছেন যাদের খোঁজ খবর আমরা জানি না, গণমাধ্যমেও হাঁকডাক করে তাদের খবরও আসে না। এমনকি আকশেও সব তাঁরা যে চোঁখে দেখা যায় না আমরা তাও জানি। কিন্তু তারা নীরবে তাদের মেধা দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন তাদের লেখনীর মাধ্যমে, কর্মের মাধ্যমে।
কবি অপেক্ষায় আছেন কবিতা লিখবেন বলে। তিনি এমন কবিতা লিখতে চান – যে, কবিতা সবার কথা বলবে, যে কবিতাটি তার নিজের মত করে সমাজের কথা বলবে,পাঠকদের ঠোঁটে রাঙা হাসি হয়ে ফুটবে, জনগণের প্রতিনিধিত্ত্ব করবে। নির্যাতিত নারীদের পক্ষে প্রতিবাদী হয়ে দাড়াবে, কবিতাটি ঠায় নিবে মায়ের ঘুমপাড়ানি গানে, সুর হয়ে ফুটবে রাখালের মুখে,যে কবিতাটি স্থান করে নিবে প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে।
একজন এ.কে.রাসেল । যার কবিতা ও সমকালীন বিষয়ে লেখা মানুষের মনের গভীরে পৌঁছে দেয়। পৌঁছে দেয় এক অন্য বোধের দুয়ারে। তার চিন্তা ভাবনায় লেখালেখির মুল বিষয় সমাজের সকল অবিচার,অনাচার, অন্যায়ের প্রতিবাদ ও নাগরিক অধিকার আদায়ে লড়াই করা এবং সমাজকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ে কাজ করা।
আমি যে ব্যক্তিকে নিয়ে লেখছি তিনি নিজ এলাকায় অনেকের কাছে একজন কবি হিসাবেই পরিচিত।
এ.কে.রাসেল লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মৃত আব্দুল মজিদ শিক্ষক, মাতা মোছা: এলিজা বেগম। স্কুল জীবন থেকে তিনি লেখালেখি শুরু করেন। তবে তার লেখার খবর ছিলো পর্দার আড়ালে। কিন্তু একদি তার পরিবার ঠিক জানতে পারেন তার লেখার কথা। প্রতিবন্ধকতা যতটা ছিলো পারিপার্শ্বিকতা, তার চেয়ে অনেক বেশী ছিলেন তিনি নিজেই। কারণ তিনি ভেবেছেন যদি তার এই সাহিত্যচর্চার কথা কেউ জানতে পারেন তবে কি ভাববেন অন্যরা? এই লজ্জায় তিনি জানাননি। কিন্তু প্রতিভা আসলে চাপা থাকার নয় সেটা সময় বুঝে ঠিকই বের হয়ে আলোর মুখ একদিন দেখবে।
অবশেষে তার লেখা প্রথম কাব্যগ্রন্থ “দ্রোহ” এটি প্রকাশিত হয় ২০১৭ ইং বই মেলায় এবং দ্বিতীয়টি হলো “দুর্ঘট”। বই দুটিতে এক স্বভাব কবির আকুলতা টের পাই আমরা। তার আগ্রহের সীমানা আকাশ পর্যন্ত। কাব্য নির্মাণেই তিনি বেশী স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। তার লেখায় আমরা মানুষের আবেগ, যাপিত জীবনের এক স্বচ্ছ আয়নায় কাব্যিক অনুভব,জাতি-ধর্ম,প্রেমের সমকালীন বাস্তব চিত্র,রাজনৈতিক সংকট ও চলমান সমাজের বাস্তবতা টের পাই। আগামী বইমেলায় সব ঠিকঠাক থাকলে বের হওয়ার সম্ভবনা আছে “ক্ষুধা সন্ত্রাস”।
লেখালেখির পাশাপাশি তিনি ব্যক্তিগত ভাবে সামাজিক উন্নয়ন মূলক নানা কার্যক্রম এর সাথে জড়িত। তিনি মনে করেন প্রতিটি মানুষ তার ইচ্ছাশক্তি আর পরিশ্রম দিয়ে ব্যক্তি জীবনে যেকোন বিষয়ে অাশা আঙ্খার প্রতিফলন ঘটাতে পারে। ব্যক্তি জীবনে তিনি দুই কন্যার জনক।
প্রথম দিকে কবিকে পরিবার থেকে কোনরকম সহযোগিতা ও সমর্থন করেনি। পরবর্তী সময়ে প্রথম কাব্যগ্রন্থ “দ্রোহ” প্রকাশিত হওয়ার পর তার পরিবার সমর্থন দেয়। এমনকি তার মা, ভাই, দঃ কোরিয়া প্রবাসী ভগ্নীপতি অর্থনৈতিক দিকেও সহযোগীতা করে আসছেন। এছাড়াও লালমনিরহাট জেলার কৃতি সন্তান, শিক্ষাবিদ উত্তরবাংলা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের প্রতিষ্ঠাতা  প্রফেসর ড.মোজাম্মেল হকসহ অনেকে।
তিনি লেখালেখির বিষয়টা তার নিজের জীবনে অবিচ্ছেদ্য ভাবেই গেঁথে নিয়েছেন।
কবিতাও আজ মুক্তি চায় কবির কাছ থেকে মুক্তি চায় কবিতার প্রতিটি চরন, প্রতিটি ছন্দ কবি আজ শুধু অপেক্ষায় থাকে অপেক্ষা ভাঙার অপেক্ষায়।
কবি এ কে রাসেল সবার কাছে দোয়া প্রার্থণা করেছেন। তিনি যেন তার লেখনির মাধ্যমে দেশ ও জাতির জন্য ভালো কিছু করতে পারেন।

One response to “একজন অজানা কবির কথা”

  1. This is a topic close to my heart cheers, where are your contact details though?

Leave a Reply

Your email address will not be published.

     এ বিভাগের আরো সংবাদ
Share via
Copy link
Powered by Social Snap
%d bloggers like this: