আজ ১৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২রা ডিসেম্বর, ২০২০ ইং

বানিয়াচংয়ের মাকালকান্দি গণহত্যা দিবস আজ

১৮ ই আগস্ট, মাকালকান্দি গণহত্যা দিবস আজ। ১৯৭১ সালের এই দিনে হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার মাকালকান্দি গ্রামে মন্দিরে মনসা পূজা চলাকালীন দুই শতাধিক হিন্দু নর-নারীকে হত্যা করেছিল পাক হানাদার বাহিনী। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিহতদের প্রত্যেক পরিবারের সদস্যদের নগদ ১ হাজার টাকা এবং একটি করে সনদপত্র দেন। কিন্তু এরপর তারা আর কোনো সাহায্য সহায়তা পাননি।

বানিয়াচং উপজেলার উত্তর-পূর্ব কোনজুড়ে হিন্দু অধ্যুষিত একটি দুর্গম গ্রামের নাম মাকালকান্দি। মুক্তিযোদ্ধাদের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এ গ্রামটি ছিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর অন্যতম টার্গেট। ১৯৭১ সালের ১৫ আগস্ট হবিগঞ্জ সার্কিট হাউসে মহকুমা শান্তি কমিটির সঙ্গে এক সভা হয় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের। এ সভায় বানিয়াচং, আজমিরীগঞ্জ থানার হিন্দু প্রধান এলাকায় আক্রমণের পরিকল্পনা করে তারা। পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে যোগ দিয়েছিল সৈয়দ ফজলে হক মোতাওয়াল্লী, আব্দুল খালিক, আজমান, ইব্রাহিম শেখ, কনর মিয়া, আতাউরসহ অনেকেই।

১৮ আগস্ট ভোরে ২৫ থেকে ৩০টি নৌকায় রাজাকারদের সঙ্গে নিয়ে মাকালকান্দি গ্রামে হামলা চালানো হয়। জ্বালিয়ে দেয়া হয় শত শত ঘর-বাড়ি। হত্যা করা হয় নারী, পুরুষ, শিশুদের। মায়ের কোল থেকে শিশুকে নিয়ে গুলি করে হত্যার পর হাওরের পানিতে ফেলে দেয়। বেশ কয়েকজন অন্তঃসত্ত্বা নারীকেও হত্যা করে নরপশুরা। ধ্বংসযজ্ঞের পর বাড়ি-ঘর ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় ডায়রিয়া, মহামারি ও অর্ধাহারে মারা যায় শিশু ও নারী-পুরুষ। শিক্ষা ও অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ এ গ্রামের বাড়িঘর থেকে ধান, স্বর্ণালঙ্কার থেকে শুরু করে ঘরের পিলার পর্যন্ত নিয়ে যায় লুণ্ঠনকারীরা।

এ গ্রামে সরকারিভাবে এখনও পর্যন্ত কোনো স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়নি। হত্যাযজ্ঞের হাত থেকে যারা বেঁচে গেছেন তারাও পাননি কোন সুযোগ-সুবিধা। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং ওই গ্রামে হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় নিহত ও আহতদের নাম মুক্তিযুদ্ধাদের তালিকায় যেন স্থান পায়। ওই গ্রামের মিনতি রানীর কোল থেকে শিশুকে কেড়ে নিয়ে হত্যা করে পাকিস্তানি বাহিনী।

তিনি বলেন, আমার কোল থেকে আমার সন্তানকে ছিনিয়ে নিলে হত্যা করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। আমি হাতে পায়ে ধরেও আমার সন্তানকে বাঁচাতে পারি নি।

বানিয়াচং উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল খালেক বলেন, মাকালকান্দিতে এতোগুলো মানুষকে মারা হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেখানে কোনো স্মৃতিস্তম্ভ হয়নি। আমরা চাই দ্রুত সেখানে সরকারি উদ্যোগে একটি স্মৃথিস্তম্ভ করা হোক।

এদিকে হত্যাযজ্ঞের হাত থেকে যারা বেঁচে গেছেন তারাও পাননি ন্যূনতম সম্মান। বেঁচে থাকার কোনো সুযোগ-সুবিধা। এদের অনেকেই অর্ধাহারে-অনাহারে দিন যাপন করছে। সরকারি বা বেসরকারি পর্যায়ে এদের সাহায্যে কেউ এগিয়ে না আসলেও তাদের একটাই দাবি, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হোক

Leave a Reply

Your email address will not be published.

     এ বিভাগের আরো সংবাদ
Share via
Copy link
Powered by Social Snap
%d bloggers like this: