আজ ৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৪শে নভেম্বর, ২০২০ ইং

মমতাকে বাংলা ছেড়ে যেতে বলে সিভিকদেরও হুঁশিয়ারী, পরে পস্তাতে হবে: থানায় অবস্হান বিক্ষোভে বিজেপি

মূখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলাকে ভালোবাসেন না। তিনি পাকিস্হান, বাংলাদেশকে ভালোবাসেন। সেখানে চলে যান। বিজেপির রাজ্যব্যাপী থানা ঘেড়াও অভিযানে সোমবার বোলপুর থানাও অবস্হান বিক্ষোভে মুখ্যমন্ত্রী সম্পর্কে এমন মন্তব্য করেন বিজেপির নেতারা। বেলা ১১ টা থেকে ১ টা পর্যন্ত অবস্হান বিক্ষোভ দেখানোর কথা থাকলেও বেলা বারোটা পনেরোর আগেই থানায় স্মারকলিপি জমা দিয়ে চলে যায় বিজেপি নেতৃত্ব। এদিন বিজেপির নেতৃত্ব অভিযোগ করেন,  কাটমানি কান্ডে সাধারন মানুষ তৃনমূল নেতাদের কাছে টাকা চাইতে গেলে পুলিশ একাধিক ধারায় মিথ্যা মামলা দিচ্ছে । কাটমানি নিয়ে যে সাধারন মাুনুষ প্রতিবাদ করছেন আমরা তাকে নৈতিক সমর্থন জানাই। অথচ পুলিশ আনাদোলনকারীদেরই নানা মামলায় ফাঁসিয়ে দিচ্ছে। তাছাড়াও তৃনমূলের সারদা, রোজভ্যালী আর্থিক লগ্নিকারী সংস্হার টাকা আত্মসাৎ করার ককেলেঙ্কারীর কথাও তুলে ধরেন। এদিন  মূখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নানা ভাষায় আক্রমন করে বিজেপি। পাশাপাশি থানায় কর্মরত সিভিক পুলিশদের হুঁশিয়ারী দিয়ে বলা হয়,  আপনারা পুলিশকে সব খবর দিচ্ছেন। পরে আপনাদের পস্তাতে হবে। এদিনে সারা রাজ্যের মতো বোলপুরেও বিজেপি কর্মীদের মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ দেখান।  পাশাপাশি অভিযোগ করেন, তৃনমূলের নেতাদের নামে অভিযোগ থাকলেও পুলিশ খুঁজে পায় না। ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিরোধীরা মনোনয়ন জমা দিতে পারেন নি তাতে পুলিশ পরোক্ষ ভাবে শাষকদলকে সাহায্য করে বলে অভিযোগ।
বোলপুর থানা ঘেড়াও অভিযানে বোলপুর থানা এলাকার সব পঞ্চায়েত ও শহর এলাকার বিজেপি কর্মীদের নিয়ে কর্মসূচী হলেও মহিলা ছিলো জনা দশেক আর বিজেপির কর্মী সমর্থক ছিলো দুশোর মতো। বিক্ষোভে নেতাদের বক্তৃতার মাঝে ঘন ঘন  জয় শ্রীরাম শ্লোগানও চলে। এদিন বিজেপি নেতা সুনীতি চট্টরাজ, বোলপুর লোকসভা কেন্দ্রের বিগত  লোকসভার প্রার্থী অধ্যাপক রামপ্রসাদ দাস সহ অনান্য নেতৃত্ব উপস্হিত ছিলেন। এদিন বীরভূমের বোলপুর, নানুর, লাভপুর সহ সব থানাতেই বিক্ষোভ কর্মসূচী নেয় বিজেপি। বিজেপির বিক্ষোভ কর্মসূচী ঘিরে  পুলিশের তরফেও ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্হা করা হয় থানা প্রঙ্গনে। পরিস্হিতি কোন ভাবে হাতের বাইরে যেন না যায় সে বিষয়ে সর্তক ছিলো আধিকারিকরা। ঘটনাক্রমে বোলপুর থানার পাশেই বোলপুর পৌরসভা ও ঢিল  ছোড়া দূরত্বে তৃনমূলের জেলা পার্টি অফিস। বিজেপির অবস্হান ও বক্তৃতা পৌরসভা থেকে তৃনমূলের কাউন্সিলাররা যেমন শুনছিলেন তেমনি বোলপুর তৃনমূলের কার্যালয় থেকেও শুনছিলেন শাষকদলের নেতারা। বিজেপির থানা বিক্ষোভ নিয়ে তৃনমূলের জেলা সহ সভাপতি তথা জেলা সভাধিপতি বিকাশরায় চৌধুরী বলেন, সব জায়গায় তো পঞ্চাশ, একশো লোক হয়েছে। যাদেরকে নিয়ে এসেছে তাদেরকেও ভুল বুঝিয়ে এনেছে। সব জায়গায় বিজেপি ছেড়ে মানুষ তৃনমূলে যোগ দিচ্ছে। মমতাকে বাংলা থেকে চলে যাওয়া প্রসঙ্গে বিকাশ বলেন, এরা উন্মাদের মতো কথা বলে। এদের নিয়ে কিছু বলতে চাই না।
রুপুপুর অঞ্চলের তৃনমূল সভাপতি কাজী নুরুল হোদা,  বোলপুর লোকসভার আউসগ্রামের তৃনমূলের নেতা দাতা আব্দুল লালন বোলপুরে বলেন, কাটমানি বলে কিছু নেই দাদা। এসব বিজেপি ও সিপিআইএমের উস্কানীতে তৈরী করা সমস্যা। কেউ সরকারী বাড়ী পেয়ে খুশি হয়ে পার্টির ছেলেকে দুশো, পাঁচশো দিয়েছে, সেটাকে উস্কে আর এক শ্রেনীর মিডিয়াকে ব্যবহার করে দলের বদনাম করা হচ্ছে। তৃনমূলের পাল্টা অভিযোগ, বিজেপির লোকবল নেই। আজ সব থানাতে বিক্ষোভ দেখালেও লোকতো হাতে গোনা! পাল্টা কট্যাক্ষ শাষকদলের।

Comments are closed.

     এ বিভাগের আরো সংবাদ
Share via
Copy link
Powered by Social Snap
%d bloggers like this: