আজ ৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৩শে নভেম্বর, ২০২০ ইং

মেয়র আপনাকে ধন্যবাদ

হঠাৎ রিকশা তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। রিকশার জন্যই শুধু যানযট হয়, আমি আপনার এই সিদ্ধান্তে একমত নই।

যানজটের নানা কারণ আছে। আমাদের বাংলাদেশে প্রচুর গাড়ি বেড়ে যাচ্ছে, একই পরিবারের সাত-আটটি গাড়ি। বাবা অফিসে যাবেন একটা গাড়ি, তিনি অফিসে গিয়ে গাড়ি সড়কে রেখে দেবেন। তার স্ত্রী সোশ্যাল ওয়ার্ক করেন বা জব করেন। উনার গাড়ি একটা। ছেলে একজন নর্থসাউথ ইউনিভার্সিটিতে পড়েন। তার জন্য একটা গাড়ি। মেয়ে একজন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে পড়েন। তার জন্য আরো একটা। মেয়ে ছোটটা ভিকারুননিসা নূন স্কুলে পড়েন। সেখানে সড়কে পার্কিং করে থাকবে একটা গাড়ি। ছেলে একটা পড়ে আইডিয়াল স্কুলে। সেখানে তো সড়কে গাড়ি পার্কিংযের আদর্শ জায়গা!

এই হলো অবস্থা। অথচ দুইটা গাড়ি দিয়েই ঘুরেফিরে ডিউটিগুলো করা সম্ভব। গণপরিবহনের অবস্থা আরো খারাপ, রাস্তায় যদি পর্যাপ্ত সুন্দর গাড়ি থাকতো তাহলে কথা ছিল না, তাও নেই। সিএনজি কখনো মিটারে যাবে না। আপনারা সিএনজিকে যে কোনো দূরত্বে মিটারে যেতে বাধ্য করুন। তা করতে পারবেন না। উবার/পাঠাও অল্প দূরত্ব দেখলে রিকোয়েস্ট ক্যানসেল করে।

আমরা যাব কোথায়?  আপনার কি ধারণা সবাই নিজের গাড়িতে চলবে? আমার কথাই বলি- আমি আমার পত্রিকার কাজে প্রায় সচিবালয়ে যাই। আমার বাসা রামপুরা, এখন কিভাবে যাব? সিএনজি ২০০ টাকা চায়। রিকশা থাকলে আমি ৮০ থেকে ১০০ টাকায় যেতে পারতাম। এখন কী করবো? আর যাদের বাচ্চা স্কুলে পড়ে তারা কি করবে?

অনেক স্কুলের ভ্যান/পরিবহন নেই। আর রিকশা যানযট তৈরি করে? তা তো উপরেই লিখলাম। আরো বলি, বাসগুলো যেখানে-সেখানে দাঁড়িয়ে যাত্রী নেয়, গাড়িগুলো যেখানে সেখানে পার্কিং করে। সড়কে সড়কে বাজার, অবৈধ ফুটপাত। মতিঝিলে আপনার সিটি করপোরেশনের বিল্ডিংয়ে কয়েকটি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা থাকার পরও গাড়ি সড়কে পার্ক করে। আপনিও অন-স্টিট পার্কিংয়ের অনুমতি দিয়েছেন।

ঢাকার মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলের সামনে, আরামবাগ, নটরডেমসহ অসংখ্য যায়গায় অবৈধ পার্কিং। তা নিয়ে কিছু হচ্ছে না। আচ্ছা আপনার কাছে প্রশ্ন, রিকশা যেসব রোডে চলে না সেসব রোডে কি যানযট হয় না? ভিআইপি রোডগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দীর্ঘ যানযট থাকে কেন? কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সবকিছু ভাবুন। ডেঙ্গু মহামারী ডেঙ্গুরর ওষুধ নিয়ে আপনার খেয়াল নেই, রাস্তা-ঘাট ময়লা, নোংরা, ভাঙা। তার দিকে আপনার খেয়াল নেই। আপনি রিকশা নিয়ে আছেন।

একটি রিকশায় তিনটি পরিবারের রিজিক জড়িত। একজন রিকশার মালিক দুইজন চালক। তাদের কি অবস্থা হবে একবার ভেবে দেখেছেন? তাদের বিকল্প কোনো আয়ের ব্যাবস্থা করেছেন? আর আমরা যারা নিন্ম মধ্যবিত্ত্ব-মধ্যেবিত্ত্ব তারা কিভাবে যাতায়াত করবো? আমাদের জন্য কি ব্যাবস্থা করেছেন?

আগে একই পরিবারের একধিক গাড়ি কমান। গণপরিবহন বৃদ্ধি করুন। সড়কে যত্রতত্র পার্কিং বন্ধ করুন। অবৈধ পার্কিং বন্ধ করুন, সিএনজিকে যেকোনো দূরত্বে মিটারে যাওয়া নিশ্চিত করুন। রাইড শেয়ারদের ও স্বল্প  দূরত্বে যাওয়া নিশ্চিত করুন। স্কুলগুলোতে পর্যাপ্ত স্কুলভ্যান/পরিবহন এর ব্যবস্থা করুন। সড়কে, ফুটপাতে অবৈধ বাজার বন্ধ করুন।

ফুটপাত দিয়ে হাঁটার জন্য ফুটপাত পরিষ্কার রাখার ব্যবস্থা করুন। রিকশা বন্ধ হলে ওই রিকশাটার তিনটি পরিবারের কমের ব্যবস্থা করুন। নাহলে তাদের জন্যই আবার ছিনতাই-চুরি বেড়ে যাবে। মাননীয় মেয়র, রাজধানী ঢাকায় শুধু রিকশার জন্য যানযট নয়। আরো অনেক কারণ আছে। আর রিকশা বন্ধ করে সৌন্দর্য বৃদ্ধিরও দরকার নেই। সৌন্দর্য বৃদ্ধির আরো অনেক উপায় আছে।

এই রিকশাচালকদের ভোটেই আপনি আজ মেয়র। কথাটা ভুলে যাবেন না। তাদের ভোট আবার আপনার লাগবে। আপনার বাবা আমাদের সকলের প্রিয় ও শ্রদ্ধাভাজন হানিফ ভাইয়ের চোখ দিয়ে দেখেন। দেখবেন আপনিও আমাদের সকলের কাছে আরেক হানিফ ভাই হয়ে যাবেন। চামচাদের কথা শুনবেন না। আল্লাহ আপনাকে বিচার-বুদ্ধি দিয়েছেন, ভেবে দেখবেন। আমরাও চাই আপনার হাত দিয়ে হোক যানযটমুক্ত, পরিষ্কার ও সুন্দর ঢাকা।

সাজ্জাদ হোসেন চিশতী : গণমাধ্যমকর্মী। সাবেক ছাত্রনেতা

Comments are closed.

     এ বিভাগের আরো সংবাদ
Share via
Copy link
Powered by Social Snap
%d bloggers like this: