আজ ৩রা মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৬ই জানুয়ারি, ২০২১ ইং

৭১’সালে মানবতাবিরোধী অপরাধে- হবিগঞ্জের রাজাকার ছালেক গ্রেফতার

৭১’সালে মানবতা বিরোধী অপরাধের সাথে সম্পৃক্ততা থাকার অভিযোগে হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলাধীন জিরুন্ডা গ্রামের বাসিন্দা অভিযুক্ত কুখ্যাত রাজাকার মোঃ ছালেক মিয়া ওরফে ছায়েক কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গতকাল রবিবার মধ্য রাতে লাখাইয়ের নিজ বাড়ী থেকে ছালেককে গ্রেফতার করা হয়। তবে একই মামলায় গ্রেফতারী পরোয়ানাভূক্ত অভিযুক্ত অপর অন্যতম আসামী আওয়ামীলীগ নেতা রাজাকার ছাব্বির আহমেদ হবিগঞ্জ শহরের আমিরচাঁন কমপ্লেক্স মার্কেট সংলগ্ন ভাড়াটিয়া বাসা থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

সংশ্লিস্ট মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এএসপি নুর হোসেন জনকন্ঠকে জানান, গতকাল রবিবার দুপুরে আন্তজার্তিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের বেঞ্চ ওই দুই রাজাকারের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করেন। এরই প্রেক্ষিতে হবিগঞ্জ পুলিশ তাদের মধ্যে ছালেক মিয়া নামে এক রাজাকারকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। তবে নানা সূত্র মতে, ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী হয়েছে এমন খবর গোপনে জানতে পেরে ছাব্বির নাকি পুলিশী অভিযানের আগেই সটকে পড়ে। প্রসঙ্গত, উক্ত উপজেলার মুড়িয়াউক-জিরুন্ডা এলাকায় ৭১’সালে পাকিবাহিনীর সহযোগিতায় তৎকালীন পাকিস্তান নেজামী ইসলাম পার্টির নেতা মৌলানা শফী উদ্দিন সহ উক্ত রাজাকাররা হত্যা, খুন, ধর্ষন, অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুর সহ নানা মানবতা বিরোধী অপরাধ সংঘটিত করার অভিযোগ উঠে। ফলে সংশ্লিস্ট মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এএসপি নুর হোসেন অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একাধিক তদন্ত করে ট্রাইব্যুনালে প্রতিবেদন দাখিল করেন। এরই অংশ হিসেবে ইতিপূর্বে সংশ্লিস্ট ট্রাইব্যুনালের নির্দেশে অভিযুক্তদের মধ্য থেকে রাজাকার জাহিদ ও তাজুল গ্রেফতার হলেও প্রধান আসামী মৌলানা শফিকে পলাতক দেখানো হয়। কিন্তু এই বয়োবৃদ্ধ রাজাকার শফি উদ্দিন এখনও প্রকাশ্যে লাখাইয়ের তার নিজ বাড়ী আবার কখনও কখনও আশপাশেই বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজ্বনের বাড়ীতে অবস্থান করছেন। অথচ পুলিশ তাকে ধরতে উদাসীনতার পরিচয় দিয়ে চলছে। এরই মাঝে একই মামলায় অপর দু’জন আসামী ছাব্বির ও ছালেকের বিরুদ্ধে ২য় পর্যায়ে আবারও তদন্ত করে উক্ত কর্মকর্তা ট্রাইব্যুনালে প্রতিবেদন দাখিল করলে ওই গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী হয়। তবে এরই মাঝে লাখাই সহ হবিগঞ্জের সর্বত্র আলোচনা উঠেছে, ৭১’সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের সাথে সম্পৃক্ততা থাকার অভিযোগে ছাব্বিরের বিরুদ্ধে তদন্ত চলাকালীন সময়ে তার ওপর কেন পুলিশের নজরধারী ছিল না অথবা যদি থেকেই থাকে তাহলে প্রতিদিনিই যে ছাব্বির হবিগঞ্জ শহর ও লাখাইয়ে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়িয়েছে সে কেমন করে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

     এ বিভাগের আরো সংবাদ
Share via
Copy link
Powered by Social Snap
%d bloggers like this: