আজ ১৪ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৯শে নভেম্বর, ২০২০ ইং

শীর্ষ সন্ত্রাসী ক্যাডার সোহেল খাঁ’র ব্যানার ফেস্টুন রাতের আধারে উধাও কুয়াকাটা-আলীপুরের ইয়াবা গডফাদাররা আতঙ্কে

আলীপুর মৎস্য বন্দরসহ কুয়াকাটার ত্রাস শীর্ষ সন্ত্রাসী একাধিক মামলার আসামি কথিত ছাত্রলীগের হাইব্রিড ক্যাডার সোহেল খাঁ’র সকল ব্যানার ফেস্টুন উধাও হয়ে গেছে। চিহ্নিত ইয়াবার পাইকারি ব্যবসায়ী ও সরবরাহকারী হিসেবে মহিপুর থানা পুলিশ সোহেলকে গ্রেফতার অভিযানে নামার খবরে এক নেতার নির্দেশে তার ছবি সংবলিত সকল ব্যানার ফেস্টুন রাতের আধারে ফেলে দেওয়া হয়েছে। কুয়াকাটা ও আলীপুরের এইসব ব্যানার ফেস্টুনে সয়লাব ছিল। সোহেল খাঁ ওইসব ফেস্টুনে নিজেকে ছাত্রলীগের নেতা হিসেবে ব্যবহার করে আসছিল।

প্রায় তিন বছর আগে লতাচাপলী ইউনিয়নের তুলাতলী গ্রামের এই অখ্যাত সোহেলকে হাই ব্রিড হিসেবে আলীপুরের এক গডফাদার ছাত্রলীগে অনুপ্রবেশ ঘটান। এরপর আর ঠেকায় কে!
সোহেল প্রকাশ্যে সশস্ত্র অবস্থায় হামলে পড়ে আওয়ামী লীগের একাধিক প্রবীণ নেতাসহ অসংখ্য কর্মীর ওপর। গডফাদারের ডান হাত হিসেবে পরিচিতি কাজে লাগিয়ে সোহেল খাঁ মাদক ব্যবসায় নেমে এক পর্যায়ে শীর্ষ সন্ত্রাসী হয়ে ওঠে।
একাধিক সূত্রে জানা গেছে, মাদ্রাসা থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া শেষ করে সোহেল খাঁ বখাটেপনা করত। ২০১৫ সালের দিকে তার অনুপ্রবেশ ঘটে সরকারি দলের সহযোগী সংগঠনে। নিজেকে পরিচিত করে ছাত্রলীগের স্বঘোষিত ক্যাডার হিসেবে, গড়ে তোলে বাহিনী। পোড় খাওয়া আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা এ বাহিনীর কাছে অসহায় হয়ে পড়েন।

একাধিক মামলার আসামি হলেও তার ফ্রি-স্টাইল দাপটে সাধারণ মানুষসহ আলীপুর-কুয়াকাটার ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সবাই ছিল সোহেল বাহিনীর দাপটে তটস্থ। চলতি সপ্তাহে হঠাৎ করে পুলিশ সোহেলের মাদকের ব্যবসাকে টার্গেট করে অভিযানে নামে। সোহেলের পাঠানো মাদকের একটি চালান ইলিশ মাছের একটি বক্সে (ককসিট) পাঠানোর খবরে পুলিশ টার্গেট করেও সফল হয়নি। মাদক ব্যবসা এবং পুলিশী তৎপরতার খবর পৌঁছে যায় স্থানীয় ওই নেতার কাছে। এরপর তাঁর নিদের্শেই দুই রাতে সোহেলের ছবি সংবলিত সকল ফেস্টুন আর ব্যানার হাওয়া হয়ে যায়। এদিকে, ফেইসবুকে সোহেলকে নিয়ে ইতোপূর্বে ভাইরাল হওয়া এবং গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে সংগৃহীত ছবিতে রয়ে গেছে পুরাতন অনেক কথা..

মহিপুর থানা পুলিশ বুধবার রাতে কুয়াকাটার খাঁজুরা গ্রাম থেকে ৪৪৫ পিস ইয়াবাসহ শাকিল নামের এক ইয়াবা পাচারকারীকে গ্রেফতার করে। তার স্বীকারোক্তী অনুসারে সোহেল খাঁর কাছ থেকে নেয়া ইয়াবা চালানের খবর পুলিশ নিশ্চিত হয়। এ ঘটনায় শাকিলসহ সোহেল খাঁ’র বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ফলে সোহেল খাঁ আত্মগোপনে যায়।
বর্তমানে এ নিয়ে মৎস্য বন্দর আলীপুর কুয়াকাটা এলাকার মানুষের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনার পাশাপাশি অনেকটা স্বস্তিও নেমে এসেছে খোদ আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতা-কর্মীদের মধ্যে।
এদিকে ইয়াবার পাইকার সন্ত্রাসী ও একাধিক মামলার আসামী সোহেল খাঁ’র গ্রেফতার তৎপরতা প্রসঙ্গে মহিপুর থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান বলেন, সোহেল খাঁ গ্রেফতার হলে একাধিক ইয়াবা গডফাদারের নাম বেরিয়ে আসতে পারে। বর্তমানে এমন শঙ্কায় রয়েছেন ওইসব গডফাদাররা, তাই সহজে পাওয়া যাচ্ছেনা সোহেলকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

     এ বিভাগের আরো সংবাদ
Share via
Copy link
Powered by Social Snap
%d bloggers like this: