আজ ৪ঠা মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২১ ইং

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে ৯ একর জায়গা জুড়ে সুকানদিঘী ! হতে পারে বিনোদন কেন্দ্র।।

লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জে ৯ একর জায়গা জুরে সুকানদিঘী! হতে পারে একটি সুন্দর বিনোদন কেন্দ্র।
এক সময়ে বাংলাদেশের অন্যতম মঙ্গাকবলিত জেলা ছিল লালমনিরহাট। কালের আবর্তে আজ অর্থনীতির চাকা সচল করে অন্যান্য জেলাগুলোর মতই লালমনিরহাট জেলা আজ স্বনির্ভর। এ জেলায় পর্যটন বিকাশের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। রয়েছে অনেক দর্শনীয়স্থান ।
জেলার দর্শনীয়স্থান গুলোর মধ্যে রয়েছে,তিন বিঘা করিডোর ও দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা ছিটমহল, তিস্তা ব্যারাজ ও অবসর রেস্ট হাউজ, বুড়িমারী স্থলবন্দর, তুষভান্ডার জমিদারবাড়ি, কাকিনা জমিদারবাড়ি, দ্বিতীয় মহিপুর সড়ক সেতু, সিন্দুরমতি দীঘি, কালীবাড়ি মন্দির ও মসজিদ, বিমানঘাঁটি, তিস্তা রেলসেতু, লালমনিরহাট জেলা জাদুঘর।

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা ও চলবলা এ দুইটি ইউনিয়নের মধ্যেবর্তী স্থানে শুকানদিঘী পুকুরটি(৯ একর) যায়গা নিয়ে অবস্থিত। পুকুরটি কখন কিভাবে খনন করা হয় এ নিয়ে স্থানীয়দের নানান প্রশ্ন থাকলেও ইতিহাস অনুসন্ধান করে জানা যায়, আজ থেকে প্রায় আট শত বছর পর্বে পুকুরটি খনন করা হয়েছিল। তবে কেউ কেউ মনে করেন পুকুরটি কোনো “দেবতা ” খনন করেছেন। এখানে হিন্দুধর্মল্বী মানুষদের বিয়ে সাধির নানা আয়োজন করা হতো বলে মনে করেন অনেকে।

ইতিহাস সুত্রে জানাগেছে,  রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ইতিহাসবিদ
লেখেন, ১২০৫ খ্রিস্টাব্দে ইখতিয়ার উদ্দিন বখতিয়ার খলজি দিল্লী থেকে এক বিশাল সৈন্য বাহিনী নিয়ে আসামের ( কামরুপ) জয় করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়ে বহু সৈন্য পরাজিত হলে দিল্লীর অভিমূখে ফেরত যাওয়ার প্রাক্কালে পশ্চিম দিনাজপুরের বালুরঘাট অঞ্চলের ( চেঙ্গসপুর) গ্রামে ইখতিয়ার উদ্দিন বখতিয়ার খলজি নিহত হন। বহু বছর সাধনার পর উল্লেখিত ইতিহাসবিদ চঙ্গসপুর গ্রামে ইখতিয়ার উদ্দিন বখতিয়ার খলজির ( কবর খানা) আবিষ্কার করেন। তারই তথ্য অনুসারে জানা যায়, আজ থেকে প্রায় আট শতবছর পর্বে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা ও চলবলা ইউনিয়নের মধ্যেবর্তী স্থানে সৈন্য বাহিনীর পানি ও জল সরববাহ করার জন্য শুকানদিঘী পুকুরটি খনন করা হয়। সে সময় ইখতিয়ার উদ্দিন বখতিয়ার খলজির সৈন্য বাহিনীকে এক স্থানে দীর্ঘদিন থাকতে হতো, এ সময় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বড় বড় পুকুর গুলো খনন করা হয়।

শুকানদিঘী পুকুরটি অবস্থান লালমনিরহাট সদর থেকে ২৩কিলোমিটার পশ্চিমে নামুড়ী বাজার থেকে ৪ কিলোমিটার পশ্চিমে। এ দিঘী জলধারা নয় বা ঐতিহাসিক কীর্তি নয়,এক বিশাল প্রাকৃতিক সৌন্দর্যরের অধিকারী। সরকারি ভাবে সংস্কারের পদক্ষেপ নেওয়া হলে একটি মনোরম পার্ক হতে পারে এটি। পুকুরের চার পাশে বসাবসের জন্য এরশাদ সরকারের আমলে গরীব অসহায় দরিদ্র ব্যক্তিদের আশ্রয় প্রদান করেন যা আজ গুচ্ছ গ্রাম নামে পরিচিত। তারাই এখন পুকুরটি লিজ নিয়ে মৎস চাষ করেন।

এ পুকুরের নাম কেন শুকানদিঘী রাখা হয়েছে, পুকুরটি বছরে একবার চৈত্র মাসের দিকে পানি ও জল শুকিয়ে যায় তাই স্থানীয়রা নাম রাখেন শুকানদিঘী বা শুকান পুকুর। পাশেই একটি বড় বাজার অবস্থিত, পুকুরের নামানুসারে সেটি এখন শুকানদিঘী বাজার নামে পরিচিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

     এ বিভাগের আরো সংবাদ
Share via
Copy link
Powered by Social Snap
%d bloggers like this: