আজ ১৩ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৭শে নভেম্বর, ২০২০ ইং

রাঙ্গাবালীতে নেই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, নেই কোনো এম.বি.বি.এস ডাক্তার

চারদিকে নদী বেষ্টিত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন পটুয়াখালী জেলার বঙ্গোপসাগরের তীরে রাঙ্গাবালী উপজেলার অবস্থান। আয়াতনে রাঙ্গাবালী উপজেলা ৪৭০.১২ বর্গকিলোমিটার। পূর্বে-কুররী-মুরকীর চর, পশ্চিমে-রমনাবাদ চ্যালেন, দক্ষিণে-বঙ্গোপসাগর, উত্তরে-আগুনমুখা নদী।

এই উপজেলায় মুসলিম, হিন্দু, চাকমাসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের লোক মিলিয়ে প্রায় দেড় লক্ষাধিক মানুষ বসবাস করে। কিন্তু এই বসবাসরত দেড় লক্ষাধিক মানুষের জন্য নেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। এমন কি বসবাসরত দেড় লক্ষাধিক মানুষের জন্য এই উপজেলায় একজন এম.বি.বি.এস ডাক্তারও নেই। যেখানে গিয়ে তারা চিকিৎসা নিতে পারে।

এই উপজেলার বেশির ভাগ মানুষই দরিদ্র কৃষক, জেলে ও শ্রমিক। ফলে অসহায় ও দরিদ্র মানুষ অন্যত্র গিয়ে চিকিৎসা নিতে না পেরে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসার অভাবে ধুকে ধুকে মারা যাচ্ছে। জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে যারা বেঁচে আছে, তাদের অনেকেই অনিশ্চিত জীবনযাপন করছে। যা দরিদ্র ঐ সকল পরিবারের জন্য বোঝাস্বরূপ।

রাঙ্গাবালী উপজেলায় বসবাসরত দেড় লক্ষাধিক অধিবাসীদের মধ্যে নারী ও শিশু ৬৮ ভাগ। ২০১২ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারী পাঁচটি ইউনিয়ন (রাঙ্গাবালী,ছোটবাইশদিয়া,বড়বাইশদিয়া,চালিতাবুনিয়া,ও চরমোন্তাজ) নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে রাঙ্গাবালী উপজেলা ঘোষণা করা হয়।

উপজেলা ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই এই উপজেলাবাসীর একটি মাত্র দাবী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণের। যাতে করে এই বিচ্ছিন্ন উপজেলার অসুস্থ জনগণ চিকিৎসা না পেয়ে মরতে না হয়। এদের চিকিৎসার জন্য উপজেলা থেকে ৭০ কিলোমিটার দূরে আগুনমুখা নদী পাড়ি দিয়ে গলাচিপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে হয়। যা অনেক সময় অসম্ভব।

কিন্তু জনপ্রতিনিধিগন বার বার জনতার সাথে প্রতিশ্রুতি দিলেও দীর্ঘ ছয় বছর অতিবাহিত হয়ে গেলেও দেখা মেলেনি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের। উপজেলাবাসীর আশার আলো যেন জ্বলছেইনা। আর কত স্বজনদের চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুর কোলে ঢলে পরতে দেখতে হবে, তা তাদের আজও অজানা।

নিরুপায় হয়ে হাঁতুড়ে ডাক্তার, ওঝা ও ফকির-কবিরাজের কাছ থেকে চিকিৎসা নিয়ে আসছে এখানের অধিবাসীরা। এখানকার অনেক শিশুরা বিভিন্ন প্রতিষেধক টিকাও ভ্যাকসিন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ফলে তারা প্রতিবন্ধীসহ বিভিন্ন দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। অনেক প্রসূতি মা সন্তান প্রসব করতে গিয়ে নিজের জীবনও দিচ্ছেন প্রায়ই।

স্থানীয় ইসলামী আন্দলোনের সভাপতি,জনাব মো:আমির হোসোন মোল্লা বলেন, সদর বাহের চর বন্দরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ হলে, উপজেলাবাসীকে ৭০ কিলোমিটার নদীপথ পাড়ি দিয়ে জেলা শহরে চিকিৎসার জন্য যেতে হবেনা।

রাঙ্গাবালী উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন বলেন, উপজেলায় হাসপাতাল না থাকায় অনেক মানুষ চিকিৎসাসেবা নিতে পারছেনা এবং অকালে মৃত্যুবরণ করছে অনেক মানুষ। আশা করছি এই সরকারের আমলেই হাসপাতাল নির্মাণ হবে, ইনশাআল্লাহ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

     এ বিভাগের আরো সংবাদ
Share via
Copy link
Powered by Social Snap
%d bloggers like this: