আজ : ১৬ই মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ২রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, সোমবার প্রকাশ করা : ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২২

  • কোন মন্তব্য নেই

    অর্থবছরের শেষ তিন মাসে বাড়তি মূল্যস্ফীতি

    নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

    গত অর্থবছরের তুলনায় চলতি অর্থবছর মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। প্রত্যেকবার শীত মৌসুমে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম কম থাকলেও এবারের চিত্র ভিন্ন। কারণ এবার শীতের আগ থেকেই শাক-সবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম ঊর্ধ্বমুখী ছিল। যা জনজীবনে ব্যাপক প্রভাব ফেলে।

    সরেজমিনে টিসিবি এবং ওএমএসএসের ট্রাক সেলে সাধারণ মানুষের দীর্ঘ লাইন দেখলে অসহায়ত্বের চিত্র চোখে পড়ে। কারণ নিম্ন থেকে মধ্যবিত্ত কেউই নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বমুখী দামের সঙ্গে পেরে উঠছে না। প্রতিদিনই কোনো না কোনো নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে। জিনিসপত্রে দাম বৃদ্ধি পেলেও বেসরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধি পায়নি। সুতরাং এভাবে চলতে থাকলে নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাপন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বৈষম্য বাড়বে।

    বাংলাদেশ পরিসংখ্যা ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি অর্থবছরের শেষ তিন মাসে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের (২০২১-২২) জানুয়ারিতে সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৫.৮৬ শতাংশ, ডিসেম্বরে হয়েছিল ৬.০৫ শতাংশ এবং নভেম্বরে ছিল ৫.৯৮ শতাংশ। অন্যদিকে, গত অর্থবছরের (২০২০-২১) জানুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি হয়েছিল ৫.০২ শতাংশ, ডিসেম্বরে হয়েছিল ৫.২৯ শতাংশ এবং নভেম্বরে ছিল ৫.৫২ শতাংশ। অর্থাৎ গত অর্থবছরের তুলনায় বর্তমানে মূল্যস্ফীতি ঊর্ধ্বমুখী।

    বিবিএসের সর্বশেষ হিসাব বলছে, দেশের শহরগুলোর সঙ্গে গ্রামের বৈষম্য বাড়ছে। যে গ্রাম থেকে শাক-সবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র উৎপাদন হচ্ছে সেই গ্রামেই বর্তমানে মানুষের মৌলিক চাহিদার জিনিসপত্রের দাম বেশি।

    বিবিএসের জানুয়ারির প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ওই মাসে গ্রামে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৬ দশমিক ০৭ শতাংশ, অথচ একই সময়ে শহরে এ হার মাত্র ৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ।

    অন্যদিকে, খাদ্য ও খাদ্য বহির্ভূতসহ সব খাতেই শহরের চেয়ে গ্রামে নিত্যপণ্যের দাম বেশি। জানুয়ারিতে শহরের চেয়ে গ্রামে মূল্যস্ফীতি বেশি হয়েছে। ওই মাসে গ্রামাঞ্চলে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে হয়েছে ৬ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ। ডিসেম্বরে ছিল ৬ দশমিক ২৭ শতাংশ। জানুয়ারিতে শহরাঞ্চলে সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ, ডিসেম্বরে এ হার ছিল ৫ দশমিক ৬৬ শতাংশ।

    বিবিএসের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে খাদ্য খাতে গ্রামে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৫ দশমিক ৯৪ শতাংশ। যা শহরে হয়েছে ৪ দশমিক ৮৫ শতাংশ। অর্থাৎ একই পণ্য গ্রাম থেকে কিনতে হলে বেশি দাম দিতে হচ্ছে। অন্যদিকে গ্রামের তুলনায় শহরে নিত্যপণ্যের দাম কম।

    বিবিএসের জরিপ বলছে, চাল, আটা-ময়দা, চিনি, ব্রয়লার মুরগি, ডিম, পেঁয়াজ, সবজিসহ প্রায় সব ধরনের খাদ্যপণ্যের দামই বেড়েছে। গত ডিসেম্বর মাসে এক লিটার তেল কিনতে ভোক্তার খরচ হয়েছে গড়ে ১৫৬ টাকা ২৫ পয়সা, গত জানুয়ারি মাসে যা ছিল ১৬০ টাকা ১০ পয়সা। অন্যদিকে, ডিসেম্বরে এক হালি ফার্মের ডিম কিনতে ক্রেতাকে খরচ করতে হয়েছে ৩৬ টাকা, যা জানুয়ারিতে ছিল ৩৮ টাকা। আবার এক কেজি গরুর মাংস কিনতে খরচ ছিল ৫৭২ টাকা, গত মাসে কেজি প্রতি গরুর মাংসের দাম ৫ টাকা বেড়ে হয়েছে ৫৭৭ টাকা। মূলত প্রতিটি পণ্যের দামই ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে।

    দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি প্রসঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, নিত্যপণ্যের দামের ঊর্ধ্বমুখীতে আমাদের জনজীবনে কিছু প্রভাব পড়বে। সবচেয়ে বড় কথা হলো পৃথিবীতে কোনো জিনিসের দাম কমে না। তবে দাম যেন বেশি ঊর্ধ্বমুখী না হয়, সেটা নিশ্চিত করতে হবে। দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল না থাকলে মানুষের জীবনযাত্রার মান ব্যাহত হয়। দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়লে বিশেষ করে নির্ধারিত আয়ের মানুষদের জন্য কষ্ট হয়ে যায়।

    তিনি বলেন, টিসিবির লাইনে তো সবাই যেতে পারে না, বা লাইনে গেলেও সবাই টিসিবির পণ্য পায় না। এ জন্য সরকারের যেসব পণ্যে ইমপোর্ট ডিউটি বেশি আছে সেগুলো কমিয়ে এনে ঊর্ধ্বমুখী পণ্যের দাম কমানো যায় কি না সেটি ভাবতে হবে। এছাড়া কার্যকরভাবে বাজার মনিটরিং করতে হবে। বিশ্ববাজারে দাম বৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে দেশে অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়ানো হচ্ছে কি না সেটি মনিটরিং করতে হবে। যদি ব্যবসায়ীরা বাজার অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করে তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।

    শহরে জিনিসের দাম কম আর গ্রামে বেশি হওয়ার কারণ কী? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গ্রামে দাম বেশি হওয়ার কথা নয়। যেগুলো আমদানিকৃত পণ্য সেগুলো তো গ্রামে দাম বেশি হবেই। চিনি, ভোজ্য তেলসহ আমদানিকৃত পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়া স্বাভাবিক। কারণ এগুলো তো গ্রাম থেকে ডিস্ট্রিবিউশন হয় না। তবে যেসব পণ্য গ্রামে উৎপাদন হয়, সেগুলোর দাম তো বাড়ার কথা নয়। তবে গ্রামে চাষিদের জন্য একটা সমস্যা হয়। বেশিরভাগ কৃষকই ধান অথবা চাল অথবা সবজি এগুলো উৎপাদন করে তারা বিক্রি করে দেন। কিন্তু পরবর্তীতে বাজারে কিনতে গেলে তারা ব্যবসায়ীদের কারসাজির আওতায় পড়েন।

    Leave a Reply

    Your email address will not be published.