আজ : ১৬ই মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ২রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, সোমবার প্রকাশ করা : ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২২

  • কোন মন্তব্য নেই

    ফরিদপুরে হাসপাতালে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে মামলা

    নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

    ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের মহিলা ওয়ার্ডের ভেতরে ঢুকে মো. রাসেল (৩৭) নামের এক যুবককে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় মামলা হয়েছে। গতকাল বুধবার রাতে আহত যুবকের স্ত্রী হিরা বেগম বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় মামলা করেছেন। এদিকে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় আজ বৃহস্পতিবার পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

    মামলার আসামিরা হলেন জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি দেবাশীষ নয়ন, হাসপাতালের নার্স ইলা সিকদার ও নার্সিং সুপারভাইজার জহুরা বেগম। এ ছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও দুজনকে আসামি করা হয়েছে। দেবাশীষ নয়ন ফরিদপুর শহরের দক্ষিণ ঝিলটুলী মহল্লার বাসিন্দা। দেবাশীষ ফরিদপুরের আলোচিত মানি লন্ডারিং মামলার আসামি জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক ফাহাদ বিন ওয়াজেনের অনুসারী বলে জানা গেছে। তাঁর বিরুদ্ধে সালথা ও ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

    মামলা সূত্রে জানা গেছে, রাসেলের স্ত্রী হিরা বেগম ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। গতকাল সন্ধ্যায় হাসপাতালের দায়িত্বরত নার্স ইলা সিকদারকে সিরিঞ্জে রক্ত টেনে দিতে বলেন রাসেল। এ সময় ইলার সঙ্গে রাসেলের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। ঘটনার কিছুক্ষণ পর দেবাশীষ নয়ন ও তাঁর সঙ্গে থাকা আরও দু-তিনজন ওয়ার্ডের মধ্যে ঢুকে রাসেলের বুকে ছুরিকাঘাত করে চলে যান। দেবাশীষসহ ওই যুবকদের ইলা সিকদার ডেকে এনেছেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

    জানতে চাইলে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এম এ জলিল বলেন, হাসপাতালে ঢুকে রোগীর স্বামীকে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে।
    ঘটনার পর থেকে দেবাশীষ গা ঢাকা দিয়েছেন। তাঁর মুঠোফোন নম্বরটি বন্ধ রয়েছে। তাই এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    এদিকে আহত রাসেল বর্তমানে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আজ দুপুরে তাঁর অস্ত্রোপচার হওয়ার কথা আছে। অস্ত্রোপচারের পর রাসেলের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানা যাবে বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।

    এদিকে গতকাল সন্ধ্যার ঘটনায় পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। জানতে চাইলে ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ও ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মো. ছিদ্দিকুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। হাসপাতালে পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

    ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট আবু আহমেদ আবদুল্লাকে এ কমিটির সভাপতি ও ডেপুটি সিভিল সার্জন শাহ মো. বদরুদ্দোজাকে সদস্যসচিব করা হয়েছে। কমিটির অন্য তিন সদস্য হলেন সদরের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ফাতেমা বেগম, ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের আরএমও গণেশ কুমার আগরওয়ালা এবং উপসেবা তত্ত্বাবধায়ক মর্জিনা বেগম।

    Leave a Reply

    Your email address will not be published.